নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাঁকে ইরানের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা চালিয়েছে এবং বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন।

আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, জনমতকে বিভ্রান্ত ও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দিতেই নিউইয়র্ক টাইমস এই মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিবেদনে যেসব দাবি করা হয়েছে, তার সবই পুরোপুরি মিথ্যা। আমরা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’ পাশাপাশি আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দী করে রাখার কথাও অস্বীকার করা হয়। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, নিজেদের ভিত্তিহীন দাবির পক্ষে সমর্থন জোগাড় করতেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও ভ্রমণ খরচ বহন করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিদেশে তাঁর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন, যার মধ্যে বুদাপেস্ট সফরের সময়কার বৈঠকও রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েল তাঁকে ইরানের নেতৃত্বের জন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলার দিনই ইসরায়েলি গোয়েন্দারা আহমাদিনেজাদকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। হামলায় তাঁর বাসভবনকে নিশানা করা হয় এবং তাঁর দেহরক্ষীদের ভবন ও বুলেটপ্রুফ গাড়ি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইরানের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর একটি কালো প্যুজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদ সদস্যরা এবং তাঁকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি করে এই উদ্ধার অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ এবং তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসানোর ইসরায়েলি পরিকল্পনা নিয়েও তাঁর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়।

গত সপ্তাহে খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। আহমাদিনেজাদ ওই জানাজায় অংশ নেন। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটাই ছিল জনসমক্ষে তাঁর প্রথম উপস্থিতি।

উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহমাদিনেজাদ। তিনি একজন কট্টর ইসরায়েল ও মার্কিনবিরোধী নেতা হিসেবে বিশেষ পরিচিত। ২০০৫ সালে এক সম্মেলনে ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইসরায়েলি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে ব্যবহারের চেষ্টার কথাও বলা হয়েছে। তবে তাঁর কার্যালয় সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদনটিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে।