আগামী ২১ ও ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সকাল নয়টা থেকে ঢাকার দারুস সালাম, মিরপুর-১-এ অবস্থিত বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে (বিকেটিটিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বয়েসেল) উদ্যোগে সৌদি আরবের মক্কায় ট্যাক্সি চালক হিসেবে কাজ করার জন্য একশত পুরুষ কর্মী বাছাইয়ের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকার ও ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত নির্বাচন করা হবে; গাড়ি চালনার দক্ষতা ও নিয়মকানুন সম্পর্কে জ্ঞানও পরীক্ষা করা হতে পারে।

এই নিয়োগের আওতায় মোট ১০০টি শূন্যপদ রয়েছে, যেখানে পদের নাম ট্যাক্সি ড্রাইভার। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। মাসিক বেতন নির্ধারিত হয়েছে ১,১০০ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬,০০০ টাকা। চাকরির মেয়াদ দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক এবং কর্মস্থল হবে মক্কা। নির্বাচিতদের নির্ধারিত সময়জুড়ে মক্কায় ট্যাক্সি চালানোর দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় অবশ্যই নিয়ে আসতে হবে নির্দিষ্ট কিছু নথি। প্রথমত, ১২টি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, যার পটভূমি সাদা হতে হবে। দ্বিতীয়ত, মূল পাসপোর্ট; একাধিক পাসপোর্ট থাকলে সবগুলোই সঙ্গে আনতে হবে এবং ছবিযুক্ত অংশের পাঁচ সেট রঙিন ফটোকপি জমা দিতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে এক বছর থাকা জরুরি। তৃতীয়ত, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আসল কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে)। চতুর্থত, ভোটার আইডির মূল কপি ও একটি সেট ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই বছরের কর্মকাল সফলভাবে শেষ হলে দেশে ফেরার ও পুনরায় যাওয়ার বিমান টিকিটের খরচ কোম্পানি বহন করবে। এই সময়কালে মোট ৪২ দিনের বেতনসহ ছুটি পাওয়া যাবে। থাকার ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং যাতায়াতের সুবিধা নিয়োগকর্তা কর্তৃক সরবরাহ করা হবে; এই সুবিধাগুলো কর্মীর নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হবে। ওভারটাইমের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের শ্রম আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।

আর্থিক শর্তাবলির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সব ধরনের ব্যয় মেটানোর জন্য ১,৬৫,০০০ টাকা এবং জামানত হিসেবে ১,০০,০০০ টাকার পে-অর্ডার জমা দিতে হবে; এই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়ার বিধান স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সফলভাবে দুই বছর কাজ সম্পন্ন হলে জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, নির্ধারিত এই পে-অর্ডার ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে, তবে তাদের নিশ্চিতভাবে প্রতারক হিসেবে গণ্য করতে হবে। নগদ লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার জন্য জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বয়েসেলের মাধ্যমে পরিচালিত এই উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে জানা যেতে পারে।