যুক্তরাষ্ট্রের হিউবার্ট এইচ হামফ্রে ফেলোশিপ প্রোগ্রামের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কর্মসূচিটি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোনো ডিগ্রি প্রদান করে না; বরং এটি পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের উন্নয়নের জন্য একটি নন-ডিগ্রি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ১৯৭৮ সাল থেকে চালু এই ফেলোশিপ প্রয়াত মার্কিন সিনেটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিউবার্ট এইচ হামফ্রের নামে উৎসর্গিত এবং ফুলব্রাইট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

ফেলোশিপটির মেয়াদ ৯ থেকে ১০ মাস, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়ে অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বাবদ অর্থ পান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, জীবনযাত্রার খরচ বাবদ মাসিক ভাতা, এককালীন সেটলিং ভাতা, দুর্ঘটনা ও অসুস্থতাজনিত বীমা, বই ও কম্পিউটার কেনার জন্য ভাতা এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের খরচ বহন করা হয়। এছাড়া পেশাদার উন্নয়নের লক্ষ্যে ফিল্ড ট্রিপ ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ও আবেদন প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশে অবস্থান। দ্বৈত নাগরিক বা যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হলে আবেদন করা যাবে না। প্রার্থীদের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং তরুণ বা মধ্য পর্যায়ের নেতৃত্বশীল পদে কর্মরত হতে হবে। অন্তত পাঁচ বছরের পূর্ণকালীন পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, যা ২০২৬ সালের আগস্টের পূর্বে অর্জন করতে হবে। তবে সম্প্রতি স্নাতক করা ব্যক্তিরা আবেদনের অযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও একাডেমিক গবেষকদের জন্য আলাদা শর্ত প্রযোজ্য; ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব না থাকলে তাঁরা সাধারণত বিবেচিত হন না, তবে ইংরেজি ভাষার শিক্ষকরা এর ব্যতিক্রম।

যাঁরা ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে এক শিক্ষাবর্ষ বা তার বেশি সময় পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা, কিংবা গত পাঁচ বছরে সেখানে ছয় মাসের বেশি অবস্থান করেছেন, তাঁরা এই ফেলোশিপের জন্য অনুপযুক্ত। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অত্যাবশ্যক এবং প্রার্থীদের টোয়েফল স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। যাঁদের টোয়েফলের মেয়াদ শেষ, তাঁদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। আমেরিকান সেন্টার কেবল নির্বাচিতদের জন্য টোয়েফলের আয়োজন করবে। ফেলোশিপ শেষে আবেদনকারীকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য থাকতে হবে।

ফেলোশিপটি বিশেষ করে মানব ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য, অধিকার ও স্বাধীনতা, টেকসই ভূমি এবং সমৃদ্ধিশালী সম্প্রদায়—এই চারটি ক্ষেত্রের ওপর জোর দেয়। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য, ছোঁয়াচে রোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। আবেদনের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে। প্রাথমিকভাবে আইআইই অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আবেদনপত্র পূরণের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য dhakausexchanges@state.gov ই-মেইলে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আগামী ১৩ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়ার সময় রয়েছে।