যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার প্রকাশিত নেচার ইনডেক্স ২০২৬-এর বৈশ্বিক তালিকায় গবেষণায় বাংলাদেশ সাত ধাপ এগিয়ে ৫৪তম অবস্থানে পৌঁছেছে। আগের বছর দেশটির অবস্থান ছিল ৬১তম। বিশ্বের ১৭৮টি মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করে বার্ষিক এই সূচক তৈরি করে নেচার কর্তৃপক্ষ। ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার মান নির্ধারণে নেচার ইনডেক্সকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত মাসে প্রকাশিত নেচার ইনডেক্সের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ সময়কালে বাংলাদেশের গবেষকদের প্রকাশিত মোট নিবন্ধের সংখ্যা ১৪৩ এবং গবেষণায় অবদানের হার ৩৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এছাড়া, জৈবিক বিজ্ঞানে বাংলাদেশের অবস্থান ৫২তম, রসায়নে ৬৩তম এবং সামাজিক বিজ্ঞানে ৪৪তম স্থানে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের সাময়িকীতে বাংলাদেশী গবেষকদের অংশগ্রহণ ও অবদান কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে বাংলাদেশের নিবন্ধের অর্জিত শেয়ার প্রায় এক-চতুর্থাংশেরও বেশি (২৬ দশমিক ১ শতাংশ) কমে গেছে।
নেচার ইনডেক্সের সামগ্রিক তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আইসিডিডিআরবি থেকে ৩৭টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২১টি, রুয়েট ও কুয়েট থেকে ৬টি, বুয়েট থেকে ৯টি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে, আগের মতো এবারও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।
একাডেমিক র্যাঙ্কিংয়ে দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে সেরার খেতাব অর্জন করেছে চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৫ সালে নেচার ইনডেক্স চালু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো হার্ভার্ড তার শীর্ষস্থান হারিয়েছে। স্বতন্ত্র একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় ১২৭৬ দশমিক ৮৫ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে, যেখানে হার্ভার্ড ১২৫৯ দশমিক ০১ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। শীর্ষ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চীনেরই চারটি—ঝেজিয়াং, ট্রিনিটি বা টিসিংহুয়া এবং সাংহাই জিয়াও তং বিশ্ববিদ্যালয়।
সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় চীনের আধিপত্য আরও প্রকট। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস ৩৬৫৫ দশমিক ১০ শেয়ার ও ১২৮২২টি নিবন্ধ নিয়ে বহুদূরে শীর্ষে অবস্থান করছে। শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের ৯টিই এখন চীনের দখলে। বিজ্ঞান গবেষণায় একক দেশ হিসেবে চীন নিজেদের আধিপত্য শুধু বজায় রাখেনি, বরং ব্যবধানও অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়েছে।
নেচার ইনডেক্স ২০২৬-এর শীর্ষ ৫টি দেশ হলো চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও জাপান। চীনের সার্বিক গবেষণা শেয়ার যেখানে এক বছরে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বৃদ্ধির হার মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এশিয়ার অন্য দুই দেশ জাপান (৯ দশমিক ০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি) ও দক্ষিণ কোরিয়া (৭ম স্থান, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি) নিজেদের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে।
নেচার ইনডেক্স বিশ্লেষণে বিভিন্ন শাখার বৈচিত্র্যময় চিত্র দেখা গেছে। রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও প্রয়োগিক বিজ্ঞানে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। রসায়ন ও অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স উভয় শাখার প্রথম চারটি স্থানই দখল করে রেখেছে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। তবে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানে বরাবরের মতো এবারও পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। সূত্র: নেচার




