গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেল শিখা-ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় হোটেলের নয়জন পর্যটক ও কর্মচারী নিহত হন। ঘটনার পর পরই হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্র ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে পালিয়ে যান। তবে শনিবার কলকাতা পুলিশের অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন। পুলিশ জানিয়েছে, পালানোর পর কলকাতায় তাঁর দুটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে দেওয়া হয়। নগদ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ধানবাদ থেকে কলকাতার বেহালার নিজ বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হন। সেখানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের আরও দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি বাংলাদেশে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্যও রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তদন্তে উঠে এসেছে যে, দুর্ঘটনাকবলিত হোটেল শিখা-ইনের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কোনো ছাড়পত্র ছিল না। এই তথ্য প্রকাশের পর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং কলকাতা পৌর করপোরেশন যৌথভাবে অন্তত ৫০টি হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিদর্শন চালিয়েছে। বিশেষ করে নিউমার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন ও জরুরি বেরোনোর পথ ঠিক করার কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব হোটেল ও গেস্টহাউসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার ১৭টি, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩টি, মারকুইস স্ট্রিটের ১৫টি, এস এন ব্যানার্জি রোডের একটি এবং তপশিয়ার একটি হোটেল বা গেস্টহাউস রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বন্ধ করে দেওয়ার নোটিশও লাগানো হয়েছে।




