মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপির (Supplemental Nutrition Assistance Program) সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সদ্য প্রকাশিত ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে এই কর্মসূচির আওতায় ছিলেন ৪ কোটি ২২ লাখ মানুষ, সেখানে ২০২৬ সালের মে মাসে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩ কোটি ৬৬ লাখে। অর্থাৎ বারো মাসে পতনের হার ১৩ শতাংশেরও বেশি। প্রাথমিক এই তথ্য সংশোধিত হতে পারে। ২০১০ সালের পর থেকে মাসিক গড় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪ কোটির নিচে ছিল মাত্র দুটি বছর—২০১৯ ও ২০২০। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩৩ লাখে পৌঁছানোর পর থেকে তালিকা কমতে শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ কার্যকর হওয়ার পর এই পতন আরও দ্রুত হয়েছে।

এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের বেশি মানুষকে খাদ্য কেনায় সহায়তা করে। অধিকাংশ সুবিধাভোগীর আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে। গড়ে প্রতি পরিবার মাসিক ৩৪৪ ডলার মূল্যমানের ডেবিট কার্ড পায়, যা শুধু মুদিখানার পণ্য কেনার জন্য ব্যবহারযোগ্য। নতুন আইনের ফলে এসএনএপিতে অংশগ্রহণের শর্ত আরও কঠোর হয়েছে। আগে অব্যাহতিপ্রাপ্ত অনেক প্রাপ্তবয়স্ককেই এখন কাজ করতে হবে, স্বেচ্ছাসেবী হতে হবে বা শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ব্যক্তি এবং যাদের সন্তান ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী—তাদের ওপরও শর্ত আরোপিত। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, ১৪ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতা থাকা মানুষ অব্যাহতি পাচ্ছেন। তবে গৃহহীন ব্যক্তিরা আগে যে অব্যাহতি পেতেন, তা বাতিল করা হয়েছে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল, নতুন শর্তে ২০৩৬ সালের মধ্যে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৪০ লাখের নিচে নামবে; কিন্তু পতনের গতি এত দ্রুত হবে বলে ধারণা করা হয়নি। ২০২৬ সালের মে মাসের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত পূর্বাভাসের সমান হয়ে গেছে। ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে যেসব রাজ্যের ভুল পরিশোধের হার ৬ শতাংশের বেশি, তাদের সুবিধার খরচের অংশ নিজেদের বহন করতে হবে—যা আরও জটিলতা বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পতনের কারণ শুধু নতুন কাজের শর্ত নয়। অ্যারিজোনায় পতনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি—২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ হ্রাস, যা দেশে সর্বোচ্চ। রাজ্যটিতে ৪ লাখের বেশি মানুষ এখন সুবিধা পাচ্ছেন না। অ্যারিজোনার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্র ব্রেট বেজিও জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময় অপ্রত্যাশিত ফোনকল ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই আবেদনকারীদের জন্য বাস্তব বাধা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, নতুন কর্মী নিয়োগ ও অনলাইনে নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পতনের গতি কিছুটা কমেছে। ফিনিক্সের বাসিন্দা লাডায়মন্ড লোপেজের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। জানুয়ারিতে তার সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তারা তার আয় ও পরিবারের বিষয়ে আরও নথি চান। তিনি নিজের সন্তানদের (বয়স ৩ ও ৯) ভাড়া চুক্তিতে যোগ করেন এবং আগের নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ফর্মে স্বাক্ষর করান—যা প্রমাণ করবে তিনি এখন সেখানে কাজ করেন না। মে মাসের শেষ দিকে অনুমোদন পেলেও এখন আবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে। “এটি এক ধরনের আতঙ্ক,” বললেন তিনি।

জর্জিয়া, লুইজিয়ানা ও নেভাদায় পতনের হার ২০ শতাংশের বেশি। ফ্লোরিডায় এক বছরের পতন ২২ শতাংশ। ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবার বিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, সংখ্যাটি কমছে কারণ রাজ্যটি বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ফিডিং সাউথ ফ্লোরিডার প্রেসিডেন্ট প্যাকো ভেলেজ মনে করেন, আইনি অভিবাসীদের মধ্যে সরকারের সুবিধা নেওয়ার ভয়ে অংশগ্রহণ কমেছে—কারণ তারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা করছেন। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের গবেষণা ফেলো র‍্যাচেল শেফিল্ড বলেন, যদি মানুষ কাজ পেয়ে বা আয় বৃদ্ধি পেয়ে তালিকা থেকে বেরিয়ে যান, তবে তা ইতিবাচক। তবে ইনভেস্ট ইন লুইজিয়ানার বিশ্লেষক টিয়া ফিল্ডস বলেন, তার অভিজ্ঞতায় মানুষ কাজের শর্ত পূরণ করতে না পারায় নয়, বরং প্রশাসনিক কাগজপত্রের জটিলতায় বেশি বাদ পড়ছেন।

ফিল্ডস আরও সতর্ক করেন যে, এসএনএপির সুবিধা বন্ধ হলে শিশুদের বিনামূল্যে স্কুলের মধ্যাহ্নভোজন বা ডব্লিউআইসি কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের সুযোগও হারিয়ে যায়। “যখন একটি শিশু দুপুরের খাবারের টাকা দিতে পারে না, তখন কী হবে?”—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। খাদ্য ব্যাংকগুলো অনুদান বাড়ালেও শেয়ার আওয়ার স্ট্রেংথের নীতি বিশ্লেষক ক্যারোলিন ভেগা বলেন, কোনো সংস্থাই এসএনএপির পরিসর ও সফলতা প্রতিস্থাপন করতে পারে না। “আমরা জানি স্কুলগুলো এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। আমরা জানি খাদ্য ব্যাংকগুলোও পারবে না,” বলেন তিনি।