কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গোজাদিয়া এলাকায় অবস্থিত সিঙ্গার বিল এখন পদ্মফুলে ভরে উঠেছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘পদ্মবিল’ নামে পরিচিত। বিস্তীর্ণ জলাভূমির বুকজুড়ে ফুটে থাকা গোলাপি পদ্ম দেখতে ছুটির দিনে দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন। শনিবার বিলটি ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট নৌকায় করে পরিবার, বন্ধু ও তরুণ-তরুণীরা পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ নৌকায় বসে প্রকৃতির এই রূপ দেখছেন, আবার অনেকে দুহাত ভরে পদ্মফুল সংগ্রহ করে ফিরছেন।
বিলে পদ্মফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য দর্শনার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কিছু নৌকার মাঝি দর্শনার্থীদের ফুল ছিঁড়তে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নিষেধ করছেন। তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার এলাকা থেকে পদ্মফুল দেখতে আসা মো. তাহসিন বলেন, বিলে অসংখ্য ফুল ফুটে থাকলেও অনেক দর্শনার্থী ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেখে খারাপ লাগছে। দুই হাত ভর্তি পদ্মফুল নিয়ে ফিরতে দেখা যায় নাজমুন্নাহার নামের এক তরুণীকে। তিনি জানান, প্রচণ্ড গরমে এত কষ্ট করে এসেছেন, সঙ্গে কিছু না নিয়ে গেলে ভালো লাগে না। তিনি মনে করেন, ফুল সব সময় থাকবে না, তাই তিনি না নিলেও অন্যরা নিয়ে যাবে।
করিমগঞ্জ বাজার থেকে পদ্মবিলে যেতে প্রায় আধা ঘণ্টার কাঁচা সড়ক পথ পাড়ি দিতে হয়। দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ এক কিলোমিটার হেঁটে, আবার কেউ নৌকা ভাড়া করে বিলপাড়ে পৌঁছান। বিলের ভেতরে পদ্মফুল দেখতে আবার নৌকা ভাড়া করতে হচ্ছে। স্থানীয় মাঝিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, একটি ডিঙিনৌকায় সাধারণত তিন থেকে চারজন উঠতে পারেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ঘোরার জন্য নৌকা ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, তবে কেউ কেউ ৬০০ টাকাতেও নৌকা পেয়েছেন। বিলপাড়ে সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট ডিঙিনৌকা থাকলেও মূলত একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ভাড়া দেওয়া হয়, এতে দর-কষাকষির সুযোগ কম বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের।
কিশোরগঞ্জ সদর থেকে পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে পদ্মবিলে বেড়াতে আসা আবিদুর রহমান জানান, বিশাল বিলে অসংখ্য পদ্মফুল দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে নৌকায় না উঠলে বিলটি ভালোভাবে দেখা যায় না। ৬০০ টাকায় ১৫ মিনিটের জন্য নৌকা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। চার-পাঁচ বছর ধরে সিঙ্গার বিলে পদ্মফুল ফুটছে বলে জানান করিমগঞ্জ সদরের স্থানীয় বাসিন্দা পাভেল হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানুষ আসছেন। তবে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ, বিলপাড়ে পৌঁছাতে দর্শনার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কাঁচা সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।
স্থানীয় সমাজকর্মী আতহার আলী মনে করেন, বিলে এখন পদ্মফুল ফোটার সময়। এই সময়ে বিলটি সংরক্ষণ করা গেলে আরও কিছুদিন দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। সড়ক সংস্কার ও বিল সংরক্ষণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা। তিনি জানান, তিনি নিজেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটির দিনে পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।




