শেরপুর পৌরসভার কার্যালয়ের ছাদে গড়ে ওঠা সবুজ উদ্যান এবার জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এই ছাদবাগানটি জাতীয় পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পরিবেশ দিবস ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। গত ৯ আগস্ট রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেরপুর জেলা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করেন।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের দিকে ভবনের ছাদে ছোট পরিসরে বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আরিফা সিদ্দিকা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় ৬ হাজার ১০০ বর্গফুটের ছাদে থাকা স্বল্প পরিসরের বাগানটির পরিধি ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর কাজ শুরু হয়। তাঁর তত্ত্বাবধানে পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী মো. সারোয়ার জাহানের পরিচালনায় প্রায় ৪ হাজার ৮৮০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে গাছগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে বিন্যাস করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

ছাদে উঠলেই চোখে পড়ে লাল-সবুজের নান্দনিক এক বাগান। চারদিকে বাহারি ফুলের সমারোহ, সারি সারি জলপাই, সফেদা, কতবেল, আম ও জামগাছ। পিটুনিয়া, পীতরাজসহ নানা প্রজাতির ফুলের পাশাপাশি রয়েছে ঔষধি ও সবজি গাছ। দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির গাছও স্থান পেয়েছে এখানে। কোনোটি ড্রামে, কোনোটি টবে, আবার কোনোটি ঝুলন্ত পাত্রে বেড়ে উঠেছে। প্রতিটি গাছের পাশে লাগানো আছে বৈজ্ঞানিক নামের ফলক, যাতে দর্শনার্থীরা গাছের পরিচয় জানতে পারেন।

বর্তমানে বাগানে ১০ প্রজাতির বনজ, ২০ প্রজাতির ফলদ, ১৮ প্রজাতির ভেষজ এবং প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ রয়েছে। এছাড়াও ৯ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় গাছ, ১০ প্রজাতির অর্কিড, ৭ প্রজাতির বিরল প্রজাতির গাছ ও ১৮ প্রজাতির সবজিসহ অন্যান্য গাছ রয়েছে। পুরো বাগানটি ফুল, ফল, সবজি ও ভেষজ—এমন বিভিন্ন কর্নারে ভাগ করা হয়েছে। ছাদের এক পাশে তৈরি চৌবাচ্চায় ফুটছে দুই ধরনের শাপলা ও পদ্ম, পাশেই ঝুলন্ত টবে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড। নিচ থেকে উঠে আসা একটি আমগাছের ডালপালা ছাদবাগানের সঙ্গে মিশে গেছে, যা বাগানের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি ছাদবাগানটি পরিদর্শন করেন শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ পলাশ। তিনি বলেন, শুধু টাকা খরচ করলেই বাগান করা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন রুচিশীল মানসিকতা, পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যা। জাতীয় পর্যায়ে শেরপুর পৌরসভার ছাদবাগান নির্বাচিত হওয়া আনন্দের বিষয়। ফুল, ফল, ঔষধি ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, যে কেউ দেখলে মুগ্ধ হবেন। ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকলে ভালো যেকোনো উদ্যোগে সফলতা আসে—এই ছাদবাগান তার উদাহরণ।

পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, পাঁচ-ছয় বছর আগে ছোট পরিসরে বাগানটি করা হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ যুক্ত করে বাগানটিকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পৌরসভার সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাগানটি সুন্দরভাবে সাজানো সম্ভব হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় আনন্দ আরও বেড়ে গেছে। সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরকে নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে পৌরসভা কার্যালয়ের ছাদবাগানটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।