সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। সাড়ে সাতটার দিকে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি, যা নিয়ে নগরবাসীর প্রশ্ন—বৃষ্টি কমবে কবে? আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য, অন্তত আজকের দিনটি সেই স্বস্তি মিলছে না। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া প্রথম আলোকে জানান, রাজধানী ও এর আশপাশে সারাদিনই বৃষ্টির প্রবণতা সক্রিয় থাকবে। তবে একটানা বর্ষণের পরিবর্তে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় আজ মাঝারি থেকে ভারী পর্যায়ের বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) সম্ভাবনা নগণ্য। এর আগে রোববার দুপুরে আবহাওয়া অফিস পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছিল; সেই তালিকায় ছিল ঢাকা বিভাগও। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় এই বিভাগেই, যার পরিমাণ ছিল ১৭৫ মিলিমিটার। তবে রাতে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসে। রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মাত্র ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।
আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, সকাল সাতটার পর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং দিনের বাকি সময়েও আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল রোববারের টানা বর্ষণে কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পথচারী ও যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তির মধ্যে একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে রিকশা, যদিও এ সুযোগে রিকশাচালকেরা ভাড়া বৃদ্ধি করেছিলেন।
আবহাওয়া দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো স্থানে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারী বৃষ্টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী চলমান এই বর্ষণে দেশের কমপক্ষে সাতটি জেলা ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে। আজকের পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম ও সিলেটে বৃষ্টিপাত কমে আসার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।



