প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে TOI-5882 নামের একটি নক্ষত্রের কাছাকাছি ঘুরছে বিশাল এক বাদামি বামন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস, আগামী আড়াই থেকে তিন কোটি বছরের মধ্যে এই বস্তুটিও নক্ষত্রটির পেটে চলে যাবে। আগের গবেষণায় এই সময়সীমা ১১ কোটি বছর ধরা হয়েছিল। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকর্ষীয় টানের প্রভাবে এটি আরও দ্রুত নক্ষত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর আগেই TOI-5882 একটি গ্রহ গিলে ফেলেছে বলেও প্রমাণ মিলেছে। নক্ষত্রটির আলোতে লিথিয়ামের অস্বাভাবিক উপস্থিতি সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। লিথিয়াম সাধারণত নক্ষত্রের তুলনায় গ্রহে বেশি থাকে। উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মেলিন্ডা সোয়ারেস-ফুর্তাদোর মতে, TOI-5882 এমন এক বিবর্তন পর্যায়ে আছে যেখানে লিথিয়ামের এই উপস্থিতি স্বাভাবিক নয়। তাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো এটি একটি গ্রহ গ্রাস করেছে। কিন্তু কীভাবে একটি নক্ষত্র লাল দানব না হয়েই গ্রহ গ্রাস করল? গবেষক ব্রুক কটেনের নেতৃত্বাধীন দলের মতে, এর জন্য দায়ী কাছাকাছি থাকা বাদামি বামন TOI-5882-b। বৃহস্পতির চেয়ে ২২ গুণ বেশি ভরবিশিষ্ট এই বস্তুটির মহাকর্ষীয় টানে নিকটবর্তী একটি গ্রহের কক্ষপথ অস্থির হয়ে পড়ে। গ্রহটি ছিটকে নক্ষত্রের দিকে ধাবিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রহটি একটি পাথুরে সুপার-আর্থ বা নেপচুনের সমান ভরের ছিল। গত ২০০ কোটি বছরের মধ্যে কোনো এক সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে। গ্রহটি নক্ষত্রের ভেতরে প্রবেশের পর মাত্র কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেলেও, এর রাসায়নিক চিহ্ন কয়েক শ কোটি বছর ধরে নক্ষত্রের আলোয় থেকে যেতে পারে। গবেষণা দুটি দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিকস জার্নাল এবং দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে প্রকাশিত হয়েছে। এমআইটির গবেষক ঋত্বিক নারায়ণের নেতৃত্বে কম্পিউটার মডেলিংয়ে দেখা গেছে, বাদামি বামনটি পূর্ব ধারণার চেয়ে দুই থেকে ছয় গুণ দ্রুত নক্ষত্রের দিকে সর্পিল পথে এগোচ্ছে। এখন TOI-5882-এ আরও গ্রহ গ্রাসের প্রমাণ খোঁজার চেষ্টা চলছে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
মহাকাশে বিরল প্রক্রিয়া: নক্ষত্রের পেটে গ্রহ, পরবর্তী শিকার বাদামি বামন
পৃথিবী থেকে ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে TOI-5882 নক্ষত্র একটি গ্রহ গ্রাস করেছে, লিথিয়ামের উপস্থিতি তার প্রমাণ। কাছের বাদামি বামনের টানে গ্রহটি ধ্বংস হয়েছে। ভবিষ্যতে বাদামি বামনটিও দ্রুত নক্ষত্রের পেটে যাবে, বলছে নতুন গবেষণা।



