শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে ফের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে চেরাগ আলী ব্যাপারীকান্দি এলাকার একটি বাড়ির পেছনের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ওপর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ উড়ে গেলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওই সময় বাড়ির মালিক আলী উজ্জামাল হাওলাদার নামের এক প্রবাসী বিদেশে থাকায় বাড়িটি খালি ছিল।

বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা তল্লাশির পর বিস্ফোরণস্থল চিহ্নিত করে সেখান থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের ধারণা, একসঙ্গে একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা আলামত বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ককটেলগুলো আগে থেকেই ওই স্থানে মজুত ছিল। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো সেখানে রেখেছিল তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিলাসপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ককটেল তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটছে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর পুলিশ ও যৌথ বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানা সনাক্ত করে এবং সেখান থেকে ককটেল ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত দুই মাসে বিলাসপুর ও এর আশপাশের এলাকায় অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী এই এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জেরে সংঘর্ষে প্রায়শই ককটেল ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া একটি চক্র এলাকায় ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ধারণা, ককটেল তৈরির পেছনে এই চক্রের হাত থাকতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে এর মূল উৎস ও জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।