বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এমনিতেই সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, তার ওপর এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই—এই সমীকরণ দর্শকদের আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হয়ে যেতে পারে এটি—এমন আবেগী সমীকরণও দর্শকদের উন্মাদনা বাড়িয়েছে। আর্জেন্টিনা পরাজিত হলে তৃতীয় স্থানের খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেটির গুরুত্ব এই সেমিফাইনালের ধারেকাছেও আসবে না।

এই বিপুল উন্মাদনার প্রভাব পড়েছে টিকিটের মূল্যে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল হওয়ায় দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফিফার অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে সস্তা 'ক্যাটাগরি ৩' টিকিটের মূল্যই ২ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকার সমান। প্রতি মিনিটে দর ওঠানামা করছে ফিফার অনুমোদিত পুনর্বিক্রয় ওয়েবসাইটে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসনটির মূল্য রাখা হয়েছে দেড় লাখ ডলার।

এর সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য দেখা গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে, যখন কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের টিকিট ছিল পুরো আসরের মধ্যে সাশ্রয়ী। সেবার সর্বনিম্ন মূল্য ছিল মাত্র ৮০০ ডলার। একইভাবে, আসন্ন ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের টিকিটের দামও আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের তুলনায় বেশ সস্তা। ডালাসে অনুষ্ঠেয় প্রথম সেমিফাইনালটির সর্বনিম্ন মূল্যমান ফিফার প্ল্যাটফর্মে ১ হাজার ৩০০ ডলার নির্ধারিত হয়েছে। তবে স্টাবহাবের মতো মাধ্যম বা দর্শকদের সরাসরি লেনদেনে ফিফার ৩০ শতাংশ সারচার্জ এড়িয়ে আরও কম দামে টিকিট পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, টিকিটের পুনর্বিক্রয় বা কালোবাজারি বিশ্বকাপে আগেও ছিল; কিন্তু এ বছর প্রথমবারের মতো ফিফা একে 'বৈধ পুনর্বিক্রয়'–এর স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনি পরিসরের আওতায় এনবিএর ন্যায় স্থানীয় ক্রীড়া আসরের পদ্ধতি অনুসরণ করছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। এর ফলে ফিফার রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসর শুরুর আগেই ধারণা করা হয়েছিল, এই খাত থেকে ফিফা ৩ বিলিয়ন ডলার লাভ করবে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে তিন গুণ বেশি।