স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মোতায়েনের আইনি কাঠামো তৈরি করতে চায় নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলেই এই ব্যবস্থা চালুর পক্ষে মত দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও প্রস্তাব দিচ্ছে ইসি। যদিও কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার পরিকল্পনা নেয়নি তারা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ বাদে স্থানীয় সরকারের বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান—ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের আইনে এসব সংশোধনী আনার প্রস্তাব তৈরি করেছে ইসির আইন-বিধি সংস্কার কমিটি। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে (২০০৯) ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় ‘প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ’ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনে তা অনুপস্থিত। সংস্কার কমিটি সব আইনে এই সংজ্ঞা একই করার পক্ষে মত দিয়েছে।

আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় অনুমোদিত হলে সুপারিশ আকারে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট চারটি আইন সংশোধন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও সংসদে বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা একই এলাকায় প্রার্থী হতে পারবেন। এ ছাড়া বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়া নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ পুলিশের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার ও সংস্কার কমিটির প্রধান আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আইনে সংজ্ঞাভুক্ত করলে নানান সুবিধা পাওয়া যায়। আইনে থাকলে আলাদা আদেশের প্রয়োজন হয় না এবং পুলিশের মতো তারাও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন ও বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পান। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসি প্রয়োজন মনে করলে সেনা মোতায়েন করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিষিদ্ধ দলের নেতাদের অযোগ্য করার দাবি সম্পর্কে তিনি জানান, যেহেতু নির্বাচন দলীয় নয়, তাই দলের বিষয়টি দেখার সুযোগ কম থাকবে।

দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদের নির্বাচন ছাড়া অন্য সব স্তরে দ্বৈত নাগরিকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্যও অযোগ্যতার বিধান যুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিশন।

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়া নিয়ে মতামত দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, দাবিটি পূরণ করতে আইনে সংশোধনী প্রয়োজন, যা এখন তাদের বিবেচনায় নেই।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম ইসির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছিল। স্থানীয় সরকার আইনেও এই ব্যবস্থা চালু হলে জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।