রাজধানীর বনানীতে বিপুল পরিমাণ জাল নোট দিয়ে স্বর্ণালংকার কেনার চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুই দিনের রিমান্ড শেষে মো. রুবেল আহম্মেদ ফকির (৪৬) নামের ওই আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুম্মান খান এ সময় তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে রুবেলকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিতে আসামির পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি তাঁর পলাতক সহযোগীর অবস্থান ও জাল নোটের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে এড়িয়ে গেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা কাজে লাগতে পারে। এছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাঁকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, রুবেল একটি পেশাদার জাল নোট চক্রের সক্রিয় সদস্য। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে জাল নোট তৈরি, প্রতারণা, মানি লন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আটকে রাখা প্রয়োজন, নতুবা তিনি পলাতক হয়ে তদন্ত ব্যাহত করতে পারেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বিকেলে বনানী সুপারমার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘মনিমালা জুয়েলার্স’-এ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন রুবেল এবং তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি (৩৭)। তারা ভাগনির বিয়ের কথা বলে বিভিন্ন নকশার গয়না দেখতে চান। পরে ২০-২১ ভরি স্বর্ণালংকার পছন্দ করে সেগুলোর বিল ও প্যাকেট করতে বলেন। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় দোকানের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি মালিককে ফোনে জানান। মালিক আসতে দেরি হলে আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হয়। এ সময় রুবেল একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলে রাখেন। কর্মচারীরা নোট পরীক্ষা করে সেগুলো জাল বলে সন্দেহ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে দুজনেই টাকা ও ব্যাগ ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কর্মচারীদের চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে রুবেলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাঁকে পিটুনি দেয়। তবে কাফি কৌশলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বনানী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে মোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট ও ট্রলি ব্যাগটি জব্দ করে। এ ঘটনায় ওই জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গত ৭ আগস্ট আদালত রুবেলকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।