গাজীপুরের শ্রীপুরে রেললাইনের ওপর এক দম্পতির মরদেহ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার ইজ্জতপুর রেলস্টেশনের কাছে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে মরদেহের খণ্ডিত অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে রাতে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন আল আমিন (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার (৩০)। রিনা শ্রীপুরের বরমী পাইটালবাড়ি এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বরমী এলাকায় আরবালা ফ্যাশন নামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

রেলওয়ের জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে মরদেহ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান এবং রাত ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রেললাইনে মরদেহের বিভিন্ন অংশ প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

দুই মরদেহের একটির সঙ্গে আরবালা ফ্যাশনের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। ওই পরিচয়পত্রের সূত্রে তাৎক্ষণিকভাবে রিনার পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরে রিনার ভাই মো. সুমন ও অন্যান্য স্বজন ঘটনাস্থলে এসে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে এক পথচারী রেললাইনের ওপর দুজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। মরদেহ ছিন্নভিন্ন হওয়ায় চেহারা দেখে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিচয়পত্রের মাধ্যমে শনাক্ত হয়।

নিহত রিনার ভাই মো. সুমন বলেন, চার বছর আগে রিনা ও আল আমিনের বিয়ে। এর আগেও রিনা বিয়ে করেছিলেন। আগের সংসারে তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। কিছুদিন ধরে রিনা ও আল আমিনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রিনা একপর্যায়ে আল আমিনকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর আল আমিন বিভিন্নভাবে রিনাকে উত্ত্যক্ত করতেন। শনিবার সকালে রিনা পোশাক কারখানায় যান। পরে কারখানার এক সহকর্মী তাঁর (সুমন) কাছে ফোন করে জানান, রিনার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে রিনার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে কল কেটে দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে ফোন বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যায় দুজনের মরদেহ পাওয়ার খবর পান তাঁরা।

রেলওয়ের জয়দেবপুর থানার এসআই ফারুক হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আজ দুপুরের দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনেরা নিয়ে গেছেন। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।