চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার ভয় দেখিয়ে শিশুদের হাঁচি আটকাতে বলা হলেও, বৈজ্ঞানিক সত্য হলো জোর করে হাঁচি বন্ধ রাখা গুরুতর শারীরিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। জনসমক্ষে লোকলজ্জা বা জীবাণু ছড়ানোর উদ্বেগ থেকে অনেকে হাত বা রুমাল দিয়ে নাক-মুখ বন্ধ করে ফেলেন, কিন্তু এই অভ্যাস যে শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা নিয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষক কিনিটাল লিউ।
তার মতে, শ্বাসনালির জন্য হাঁচি একটি জরুরি ও প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফুসফুস থেকে তীব্র গতিতে বাতাস ও জীবাণু বের করে দেওয়াই এর মূল কাজ। কিন্তু যখন কেউ নাক-মুখ শক্ত করে বন্ধ করে দেন, তখন সেই প্রচণ্ড বায়ু চাপ বাইরে নির্গত হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁচির সময় বুক ও পেটের পেশি এবং পাঁজরের অভ্যন্তরীণ পেশিগুলো একটি বন্দুকের মতো কাজ করে এবং ভেতরের চাপ বুলেটের ভূমিকা নেয়। আটকে রাখা এই চাপ উল্টো দিকে ধাবিত হয়ে নাক, গলা, সাইনাস এবং কানের গভীরে ঢুকে পড়ে।
িনা ও মুখ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে তৈরি এই চাপ শরীরের নরম টিস্যু ও রক্তনালিতে আঘাত আনতে পারে। অতিরিক্ত চাপে কানের পর্দ ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনাও অসম্ভব নয়। সাধারণত মাঝেমধ্যে হাঁচি আটকিয়ে দিলে তাৎক্ষণিক ভয়াবহ কিছু না ঘটলেও, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে একটি সামান্য হাঁচির শক্তি কতটা তীব্র। তাই হাঁচির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ক্ষতিকর ধুলাবালি, অ্যালার্জি বা রোগজীবাণু যাতে ফুসফুসে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য মানবদেহ বিপুল শক্তি প্রয়োগ করে এই উপাদানগুলোকে বাইরে বের করে দেয়। হাঁচি আটকানোর পরিবর্তে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করাই উত্তম। হাতের কাছে টিস্যু না থাকলে কনুইয়ের ভাঁজে নাকে-মুখ ঢেকেও হাঁচি দেওয়া একটি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়।
বিশেষ পরিস্থিতি, যেমন চাকরির সাক্ষাৎকার বা গম্ভীর অনুষ্ঠানের মাঝে হাঁচি এলে পুরোপুরি বন্ধ না করে মুখ দিয়ে কিছুটা বাতাস বের করতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কিনি লিউ। এতে অভ্যন্তরীণ বায়াপ চাপ অনেকটা কমে যায় এবং আঘাতের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়াও, হাঁচি শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বদলে বা জিব দিয়ে উপরের তালুতে চাপ প্রয়োগ করে হাঁচি থামানোর সুযোগ থাকে। নাকের নিচে আঙুল রেখে হালকা চাপ দিলেও স্নায়বিক সংকেত ব্যাহত হয়ে হাঁচি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে তাতে হস্তক্ষেপ না করে স্বাভাবিকভাবে হাঁচি দিয়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।


