হুমায়ূন আহমেদের লেখা যাঁরা পড়েছেন, তাঁদের কাছে নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি (এনডিএসইউ) যেন এক চেনা ক্যাম্পাস। পলিমার রসায়নে পিএইচডি করা এই লেখক তাঁর ‘হোটেল গ্রেভার ইন’সহ একাধিক বইয়ে এখানকার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি শিক্ষার্থী সুমন দে তাঁর লেখায় জানিয়েছেন, এনডিএসইউতে পড়তে আসার আগে থেকেই জানতেন তিনি হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত জায়গায় পা রাখছেন। রওনা হওয়ার ঠিক আগে বন্ধুর কথায় সেই অনুভূতি আরও দৃঢ় হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে একটি ঘটনা তাঁকে ভাবায়। বাংলাদেশি চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম বিশেষ কোনো কনফারেন্সের জন্য নয়, শুধু হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতির খোঁজে ফার্গো শহরে আসেন। তিনি সুমনের অ্যাপার্টমেন্টে উঠে ক্যাম্পাস, বিশেষ করে ডানবার হল দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ‘হোটেল গ্রেভার ইন’-এর ‘ডানবার হলের জীবন’ অংশে এই হলের ৫২৯ নম্বর রুমে কোয়ান্টাম মেকানিকস ক্লাসের উল্লেখ আছে। ডা. তারিকুলের চোখে ছিল স্মৃতির এক টুকরো খোঁজার আগ্রহ। দুজন মিলে ক্যাম্পাস ঘুরতে বেরোন। পাথরের বাইসন মূর্তির পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন। মিনার্ড হল, মরিল হল, ল্যাড হল পেরিয়ে সুগিহারা হলের দিকে যান, কিন্তু ডা. তারিকুলের মন পড়ে থাকে এক পুরোনো মানচিত্রে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ডানবার হলের সন্ধান মেলে না। পরে জানা যায়, ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু ডানবার হল নয়, হোটেল গ্রেভার ইনও এখন নেই। তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক অ্যাপার্টমেন্ট। ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক আবছাভাবে হুমায়ূন আহমেদের নাম মনে করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরিয়াল ইউনিয়নে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও দেখা হয়। দেয়ালে টাঙানো বোর্ডে হুমায়ূন আহমেদের নাম খুঁজতে গিয়ে কোথাও পাননি তাঁরা। ছোট ছোট মুহূর্তের মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ ফার্গো শহরকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তাঁর লেখায়—বিমানবন্দরের ঠান্ডা বাতাস, অচেনা কফির স্বাদ, নির্ঘুম রাত, সস্তার খাবার আর বেঁচে থাকার লড়াই। সেই আবেগ এখনো ছুঁয়ে যায় ভক্তদের। ডা. তারিকুলের সঙ্গে এই ‘অভিযান’ নিয়ে সুমন দে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্পেকট্রাম’-এ ‘দ্য স্টোরি দ্যাট মেড এনডিএসইউ নোন ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে লেখাও লিখেছেন, যা গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত হয়।

মূল ঘটনা অপরিবর্তিত রেখে ভাষা ও গঠন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।