ব্রাজিলের হয়ে আর কখনো মাঠে নামবেন না নেইমার। আজ কোপা সুদামেরিকানার নকআউট প্লে–অফে ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪–২ গোলে জয়ের পর মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে এ কথা জানান ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার লুকাস মউরা ‘স্পোর্তে রেকর্ড’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, নেইমার ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে নেইমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ।

‘মউরাকে ধন্যবাদ, কিন্তু এটা ঘটবে না,’ বলেন নেইমার, ‘জাতীয় দলে আমার সময় শেষ হয়েছে। ইতিহাস গড়েছি, সুখী ছিলাম। নিজের জীবন, রক্ত—সবই দিয়েছি। হলুদ জার্সিতে সব সময় লড়াই করেছি। কিন্তু এখন আর এসব চাই না।’ এর আগে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলে হারের পর অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানে আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’ উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ওই একই স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তাঁর।

সেই সময় স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ভক্তদের মধ্যে ক্ষীণ আশা জেগেছিল। তবে আজ সান্তোসের হয়ে মাঠে নামার পরই সেই আশায় জল ঢেলে দেন তিনি। সান্তোসের এই ম্যাচে ৪৫ মিনিটে বদলি হয়ে নামা নেইমার বেশ ভালো খেলেছেন বলেই জানিয়েছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম। দেশের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা এই তারকার হলুদ জার্সিতে শেষ গোলটি ছিল বিশ্বকাপেই—নরওয়ের বিপক্ষে সেই হারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি থেকে। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নেইমারের অবদান নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তাঁর এই সিদ্ধান্তে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের মনে। তবে নেইমার নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই শেষ।