দেশের রংশিল্পের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন এ্যাকোয়া পেইন্টসের পরিচালক শায়ান সিরাজ। প্রতিষ্ঠানটির ৭৪ বছরের পথচলা, স্থানীয় শিল্পের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ওপর জোর দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।

শায়ান সিরাজ জানান, ১৯৫২ সালে তাঁর দাদা মরহুম সিরাজউদ্দিন আহমেদ এই রঙের কারখানার ভিত্তি স্থাপন করেন। প্রাক-স্বাধীনতা যুগে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রংশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ। সে সময় মূলত নৌকার জন্য 'আলকাতরা' বিক্রি করা হতো, যা বর্তমানের আধুনিক রঙের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। এখন প্রতিষ্ঠানটি ৭৪ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। তাঁর ভাষ্যে, মূল লক্ষ্য হলো এই দীর্ঘ পথচলার অর্জনকে ধরে রাখা এবং বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আন্তর্জাতিক মানের পণ্য সরবরাহ করা।

স্থানীয় উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, রংশিল্পে প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে এ্যাকোয়া পেইন্টসের একটি বড় শক্তি হলো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ। প্রতিষ্ঠানটি নিজেই রঙের প্রধান উপাদান আঠা তৈরি করে। শুধু নিজেদের প্রয়োজন মেটানোই নয়, প্রায় ৫০টি স্থানীয় কোম্পানিকেও তারা এই আঠা সরবরাহ করে। সরকারের কাছে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সহায়তা ও নিয়মকানুন সহজ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এতে উৎপাদন খরচ কমবে, গ্রাহক উপকৃত হবেন এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। তবে বর্তমানে বন্ডসুবিধা কেবল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই সীমাবদ্ধ, যা স্থানীয় বাজারের জন্য তৈরি কোম্পানিগুলো পায় না।

সৌন্দর্যবর্ধনের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি পারফরম্যান্সের ওপর জোর দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শায়ান সিরাজ বলেন, অনেক স্থানীয় কোম্পানি পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে পিছিয়ে থাকে। বাজারে মশা নিধক রং বা কুলিং পেইন্টের মতো পণ্য প্রচলিত হলেও সেগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সব সময় কার্যকর হয় না। বরং হালকা রঙের উচ্চ প্রতিফলন ক্ষমতা ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখতে বেশি সাহায্য করে। তাই সাময়িক চমকের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি পারফরম্যান্স ও সঠিক মান বজায় রাখার ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।