কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য আত্মবিশ্বাসকে শুধু একটি ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং একটি শেখার মতো দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক ক্যাটি কে। ফরচুনে প্রকাশিত তার মতামত কলামে তিনি বলেছেন, আত্মবিশ্বাসই সেই গুণ যা চিন্তাকে কর্মে রূপান্তরিত করে। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. রিচার্ড পেটির মতে, আত্মবিশ্বাস আমাদের ভয় মোকাবিলা করতে, নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে এবং ধারণা থেকে বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া—কাজ করার মাধ্যমেই আমরা এটি গড়ে তুলি। আরামদায়ক অঞ্চল থেকে বেরিয়ে এসে ঝুঁকি নেওয়া, ভুল করা, বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে চলাই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি।

অনেক প্রতিষ্ঠানের ভুল দৃষ্টিভঙ্গি হলো, তারা ইতিমধ্যেই আত্মবিশ্বাসী দেখায় এমন লোকদের পুরস্কৃত করে, বরং অন্যদের মধ্যে এই দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে না। ক্যাটি কে মনে করেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারীদের কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি বর্তমানে থমকে গেছে বা পিছিয়ে পড়ছে। কোভিড-১৯-এর কারণে কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন এবং ডিইআই (বৈচিত্র্য, সাম্য ও অন্তর্ভুক্তি) কর্মসূচির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ফলে শীর্ষ পদে নারীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস গ্লোবালের একটি সমীক্ষা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নির্বাহী পদে নারীদের অংশীদারিত্ব প্রায় ২০ বছর ধরে অবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধির পর প্রথমবারের মতো কমেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর কোম্পানিগুলোর বোর্ডেও নারীরা নতুন আসন কম পেয়েছেন। গোল্ডম্যান শ্যাকসে নারী অংশীদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।

ক্যাটি কে যুক্তি দেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে এই ব্যবধান শুধু নারীদের জন্যই নয়, কোম্পানিগুলোর জন্যও ক্ষতিকর। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গোল্ডম্যান শ্যাকস ও পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কোম্পানির নেতৃত্বে নারীরা বেশি, তারা প্রতিযোগীদের চেয়ে ভালো করে। তিনি বলেন, আধুনিক কর্মক্ষেত্র মূলত পুরুষদের জন্য এবং পুরুষদের দ্বারা তৈরি। এ কারণে নারীদের জন্য নিজেদের মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়। তাদের প্রায়শই বলা হয় যে কোনো পদের জন্য বিবেচিত হওয়ার আগে তারা পুরোপুরি দক্ষ হতে হবে, বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখানোর জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। এটি কাঠামোগত সমস্যা, ব্যক্তিগত নয়।

সেরা নেতারা ভয়হীন নন, বরং তারা ভয় সত্ত্বেও কাজ করতে শিখেছেন বলে মন্তব্য করেন ক্যাটি কে। নতুন কিছু করার চেষ্টায় সব সময় ভয়ের উপাদান থাকে—ভুল করার ভয়, ব্যর্থতার ভয়, নিখুঁত না হওয়ার ভয়। প্রশ্ন হলো, সেই ভয় কি আপনাকে থামিয়ে দেয়? তিনি যে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক ব্যক্তিরাও সন্দেহ, ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। তাদের আলাদা করে তা নয় যে তারা নির্ভীক, বরং তারা ভয় থাকা সত্ত্বেও এগিয়ে যেতে পারেন। পেলোটনের সুপারস্টার প্রশিক্ষক অ্যালি লাভ তাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ভয়ের মুহূর্তগুলো মোকাবিলা করেন—এভাবেই তিনি নিশ্চিত করেন যে সন্দেহ ও নিরাপত্তাহীনতা তাকে কাজ করতে বাধা না দেয়। ক্যাটি কে মনে করেন, সন্দেহ ও ভয় স্বাভাবিক; অনিশ্চয়তা মানবিক। নিজেকে কিছুটা ছাড় দেওয়া এবং তারপর কাজ করা—এটাই প্রকৃত আত্মবিশ্বাসের পরিচয়। ফরচুনের মতামত কলামে প্রকাশিত এই মতামত শুধু লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, যা ফরচুনের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে না।