দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় রং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এশিয়ান পেইন্টস ২০০২ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির দেশীয় বাজারে অবস্থান, উদ্ভাবনী পণ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এস এম মিনহাজ।
তিনি জানান, গাজীপুর ও মিরসরাইয়ে অবস্থিত দুটি উৎপাদন কারখানার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেইন্ট ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। বাজারে সরবরাহকৃত পণ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়াও এক হাজারের বেশি ডিলারের একটি শক্তিশালী সরবরাহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের সব জেলায় গ্রাহকদের কাছে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
গ্রাহকদের চাহিদার পরিবর্তন সম্পর্কে মিনহাজ বলেন, রং এখন কেবল দেয়াল ঢাকার একটি উপকরণ নয়; বরং এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব ও জীবনযাত্রার নান্দনিক প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে ক্রেতারা এখন ঘরের সৌন্দর্য নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা সাধারণ রঙের পরিবর্তে উন্নত ফিনিশিং, দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
পরিবর্তিত এই চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে কাজ করছে। মিনহাজ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আর্দ্রতা ও দেয়ালে নোনা ধরার সমস্যা খুবই সাধারণ। এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে তারা ওয়াটারপ্রুফিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কেমিক্যাল ক্যাটাগরিতে বিশেষ জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি দেয়াল সব সময় পরিষ্কার রাখতে বাজারে আনা হয়েছে ‘নন-স্টিক পেইন্ট’। তার মতে, নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষাই এখন তাদের মূল অগ্রাধিকার।
বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কীভাবে স্থানীয় বাজারে সাহায্য করছে জানতে চাইলে মিনহাজ বলেন, বিশ্বের ১৪টি দেশে ব্যবসা ও ২০০ জনের বেশি গবেষকের বৈশ্বিক প্রযুক্তি তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আন্তর্জাতিক গবেষণাগার থেকে আসা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও পণ্যের সর্বোচ্চ মানকে স্থানীয় বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী তারা কাজে লাগাচ্ছেন। এর ফলে বৈশ্বিক মান ও স্থানীয় চাহিদার সঠিক সমন্বয় ঘটিয়ে গ্রাহকদের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা ও আস্থাশীল সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে।




