জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সক্রিয় একটি কিডনি কেনাবেচা চক্রের সদস্য হিসেবে সন্দেহভাজন আবদুস সাত্তারকে পুলিশ আটক করেছে। বুধবার রাতে বগুড়া নগরের পৌর পার্ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আটককৃত ব্যক্তি কালাইয়ের বহুতি গ্রামের মৃত আবদুল জব্বার খলিফার সন্তান। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের অপরাধে একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার শিকার মন্টু মিয়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খুকশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আর্থিক সংকটে জর্জরিত হয়ে তিনি একটি দালাল চক্রের প্রলোভনের শিকার হন। তাঁকে একটি বৃক্ক বিক্রির বিনিময়ে দশ লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর ঢাকায় নিয়ে গিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং বিদেশ ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ভাগে মন্টু মিয়াকে পঞ্চাশ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে নেপালে পাঠানো হয়। সেখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানোর পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি বৃক্ক অপসারণ করা হয়। হাসপাতালে কয়েকদিন থাকার পর তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক অবশিষ্ট নয় লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধের দাবি জানালে আসামিরা বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এই ঘটনায় গত ১৩ জুন মন্টু মিয়া জয়পুরহাট আদালতে আবদুস সাত্তারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে কালাই থানা পুলিশ মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করে। অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মানবদেহের অঙ্গ কর্তন ও অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, কালাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত দালাল গোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে। চক্রটি গ্রামের দরিদ্র ও ঋণে জর্জরিত মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মানব অঙ্গ বিক্রির ফাঁদে ফেলে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানা এলাকার সহযোগিতায় আবদুস সাত্তারকে আটক করা হয়। তাঁকে আদালতে হাজির করার পাশাপাশি চক্রের অন্যান্য সদস্য ও জড়িত দালালদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।



