রংপুর নগরের তাজহাট আনসারির মোড় এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্যারেজের শাটারের তালা কেটে লাশটি বের করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুর রহমান (৫৫), যিনি ওই গ্যারেজের মালিক ছিলেন এবং সেখানেই থাকতেন। তাঁর মাথার পেছনের অংশে চারটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কোনো শক্ত বস্তু দিয়ে আঘাত করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজেই থাকতেন এবং রিকশাগুলোর দেখভাল করতেন। তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পাঁচ স্ত্রী ছিলেন; প্রথম দুই স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান রয়েছে, যারা আলাদা থাকেন। এরপর তিনি আরও তিনটি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা গেছে। এই নিয়ে তাঁর পারিবারিক বিরোধ ছিল বলেও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কাকে সন্দেহ করা যায় তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে এ ঘটনায় তারা মামলা করবেন বলে জানান তিনি। গ্যারেজের পাশের বাসিন্দা হিরু মিয়া জানান, রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি গ্যারেজের শাটার নামানো দেখেছিলেন এবং কোনো অস্বাভাবিক শব্দ পাননি। সকালে মানুষের চিৎকার শুনে বাইরে এলে দেখতে পান লোকজন জড়ো হয়েছে; পরে শাটারের ফাঁক দিয়ে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় আবদুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ পরীক্ষা করে মাথার পেছনে চারটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সম্ভবত শক্ত লোহার কোনো বস্তু দিয়ে ওই আঘাত করা হয়েছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর পেছনের কারণ কী, তা উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।