চলমান বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিসরের বিপক্ষে এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয়েছে ফুটবল বিশ্ব। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে এসে দুই গোলের ব্যবধান কাটিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথমবার যখন দুই বা ততোধিক গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছে দলটি। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার গল্পটি আর্জেন্টিনার কাছে নতুন নয়। অতীতের বিশ্বকাপ আসরগুলোতেও পাঁচবার এমনই প্রত্যাবর্তনের নজির রয়েছে তাদের।

সর্বশেষ এই প্রত্যাবর্তনের গল্পটি ২০২৬ সালের আসরেরই। মিসরের মোহাম্মদ সালাহর দল ১৫ ও ৬৭ মিনিটে গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। নকআউট পর্বের ম্যাচে তখন আর্জেন্টিনার জন্য পরিস্থিতি ছিল শঙ্কাজনক। কিন্তু ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর ৭৯ মিনিটের হেড, লিওনেল মেসির ৮৩ মিনিটের সমতাসূচক গোল এবং এনজো ফার্নান্দিজের ৯২ মিনিটের জয়সূচক হেড নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফলে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয় স্কালোনির শিষ্যদের।

এর আগে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। কিন্তু হার্নান ক্রেসপো দ্রুত সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাক্সি রদ্রিগেজের অসামান্য ভলি গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় লিওনেল স্কালোনি নিজে যেখানে খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে ছিলেন।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও একই চিত্র। প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর ক্লদিও ক্যানিজিয়া একাই জোড়া গোল করে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন। ডিয়েগো ম্যারাডোনার পায়ের জাদু ও ক্যানিজিয়ার গতি মিলিয়ে আর্জেন্টিনা সে ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করে।

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠে হাঙ্গেরি বিপক্ষে শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা। লিওপোল্ডো জাসিন্টো লুকু ও ড্যানিয়েল বার্তোনির গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিজার লুইস মেনোত্তির দল। সেবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে তারা।

প্রথম প্রত্যাবর্তনের নজির ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ওমর করবাতার পেনাল্টি, নরবার্তো মেন্দেজ ও লুদোভিকো আভিওর গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় পায় তারা।