চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে মিসরের জার্সিতে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সবার নজর কেড়েছেন গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবের। বেলজিয়াম ও অস্ট্রেলিয়ার পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তিনি গোলপোস্টে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। লিওনেল মেসির পেনাল্টি কিক ঠেকিয়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ গোলকিপার।

মোস্তাফা শোবের মিসরের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক আহমেদ শোবেরের সন্তান। বাবা আহমেদ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে খেলেছিলেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা সেই ম্যাচে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মজার ব্যাপার হলো, মোস্তাফার বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে শেষ হয়, যেখানে তিনিই ছিলেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

২০০০ সালে জন্ম নেওয়া মোস্তাফা শৈশব থেকেই মিসরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আল আহলির একাডেমিতে ফুটবল শিক্ষা নিয়েছেন। বর্তমানে এই ক্লাবের হয়েই পেশাদার ফুটবল খেলছেন তিনি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সিএএফ চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি চোটে পড়লে সুযোগ পান মোস্তাফা। পুরো টুর্নামেন্টে টানা ৯ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দিয়ে আল আহলির শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

২০২০ সালে আল আহলির সিনিয়র দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ৬৩টি ম্যাচ খেলেছেন মোস্তাফা। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পর মিসরের হয়ে খেলেছেন ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিশ্বকাপে (টাইব্রেকার বাদে) এখন পর্যন্ত দুটি পেনাল্টি সেভ করা একমাত্র গোলরক্ষক তিনি। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি পোলিশ গোলরক্ষক জান তোমাশেভস্কি (১৯৭৪), ভয়চেখ শেজনি (২০২২) এবং মার্কিন ব্র্যাড ফ্রিডেলের (২০০২) পাশে জায়গা করে নিয়েছেন।

মোস্তাফা শোবেরের শান্ত স্বভাব, দ্রুত রিফ্লেক্স এবং চাপের মুহূর্তে স্থির থাকার সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেই বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে সুযোগ দেন মিসরীয় কোচ হোসাম হাসান। সূত্র: ফিফা ডটকম, উইকিপিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।