প্রায় চার মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকার পর বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছেছেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের অবরুদ্ধ দশার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
জাহাজটি গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। কাতার থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। তার পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি উপসাগরেই আটকা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ইরানি বাহিনীর অনুমতি পেয়ে ২৩ জুন রাতে ১১৫ দিন পর প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় অনেক নাবিক মারাত্মক মানসিক আঘাত পেয়েছেন। কারও কারও মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তাদের চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। খাবার ও পানির তীব্র সংকটে ভুগেছে জাহাজটি। প্রণালি পারাপারের সময় কিছু জলযান ডুবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে এক রাতে পাশের বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। তেলবাহী একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়, যা ছয়টি টাগবোট দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ক্যাপ্টেনের মতে, ট্যাংকারটির ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে আগুন তাদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।
তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ পরিচালনা করতে হয়েছে। এলাকায় মাইন থাকায় সামান্য বিচ্যুতিতেও বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, এর কারণেই তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন। যুদ্ধ চলাকালে সরকার তাদের জাহাজ ছেড়ে হোটেলে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদের দায়িত্বে থেকে জাহাজে অবস্থান করেন। তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা যেন দ্বিতীয় জীবন পেয়েছেন।
বিমানবন্দরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা নাবিকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা তাদের জড়িয়ে ধরলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।




