আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষার (২০২৭) জীববিজ্ঞান বিষয়ের সৃজনশীল অংশের প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে দিয়েছেন ঢাকার সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান।

প্রশ্নটি চারটি অংশে বিভক্ত—টিস্যুর সংজ্ঞা, ভাজক টিস্যুর ব্যাখ্যা, চিত্রে প্রদর্শিত ফ্লোয়েম টিস্যুর দুটি অংশের পার্থক্য এবং ফ্লোয়েম টিস্যুর শারীরবৃত্তীয় ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ।

প্রথম অংশে বলা হয়েছে, একই উৎস থেকে সৃষ্ট সুসংগঠিত ও অবিচ্ছিন্ন কোষগুচ্ছ যখন একই ধরনের কাজ সম্পাদন করে, তখন তাকে টিস্যু বলে। দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, বিভাজনে সক্ষম কোষ নিয়ে গঠিত টিস্যুই ভাজক টিস্যু। এই কোষগুলোর কোষপ্রাচীর পাতলা ও সেলুলোজ নির্মিত, নিউক্লিয়াস তুলনামূলকভাবে বড় এবং সাইটোপ্লাজম ঘন হয়। সাধারণত ভাজক কোষে কোষগহ্বর থাকে না এবং কোষগুলো আয়তকার বা ডিম্বাকার হয়ে থাকে।

চিত্রভিত্তিক প্রশ্নে P টিস্যু হিসেবে ফ্লোয়েমকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে A অংশটি হলো সিভনল এবং B অংশটি হলো সঙ্গী কোষ। এই দুটি অংশের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে গিয়ে বলা হয়েছে—পরিণত সিভনলে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম অনুপস্থিত থাকে, অন্যদিকে সঙ্গী কোষে নিউক্লিয়াস এবং প্রচুর সাইটোপ্লাজম বিদ্যমান। কাজের দিক থেকেও পার্থক্য রয়েছে; পাতায় তৈরি খাদ্য পরিবহনের মূল দায়িত্ব সিভনলের, আর এই প্রক্রিয়ায় সঙ্গী কোষ তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

চূড়ান্ত অংশে ফ্লোয়েম টিস্যুর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতার শিরা-উপশিরা জুড়ে এই জটিল টিস্যু অবিচ্ছেদ্যভাবে বিস্তৃত থাকে। ফ্লোয়েম পাতায় উৎপাদিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম সচল রাখে, উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সঞ্চয় করে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই টিস্যুর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের আঁশ মূলত সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম ফাইবার, যা বাস্ট ফাইবার নামেও পরিচিত। এই পাট থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পাটজাত পণ্য ও বস্ত্র রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়। উল্লেখিত দিকগুলো বিবেচনায় ফ্লোয়েম টিস্যু শারীরবৃত্তীয় ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়।