ত্রিনিদাদের কুইনস পার্ক ওভালে চলমান টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনেই খেলার ভাগ্য নির্ধারণের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১০৩ রান। ক্রিজে রয়েছেন জাস্টিন গ্রিভস (১*) এবং বর্তমানে ক্যারিবিয়ানদের সার্বিক লিড মাত্র ৬০ রানের।
স্বাগতিকদের জন্য উদ্বেগের আরও একটি বড় কারণ হলো অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্র্যান্ডন কিং-এর চোট। প্রথম সেশনে বাবর আজমকে রান আউট করার সময় তিনি আঘাত পেয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। চতুর্থ দিনে তার ব্যাটিং করতে নামা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কোচ রবি রামপাল। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই, মেডিকেল টিম তাকে পরীক্ষা করছে।’ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে কিংকে না পেলে স্বাগতিকদের সংকট আরও গভীর হবে।
ক্যারিবিয়ানদের এই দুরাবস্থার কারিগর পাকিস্তানের দুই স্পিনার সাজিদ খান ও আলী উসমান। শেষ সেশনে তারা দুই জন মিলে ৬টি উইকেট ভাগাভাগি করেন। সাজিদ এককভাবে ৪টি শিকার করেন, বাকি ২টি নেন উসমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান এসেছে কাভেম হজের ব্যাট থেকে। এর আগে দিনের দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে। কিন্তু বাকি ৮ উইকেট হারাতে তাদের যোগ করতে হয় মাত্র ১২১ রান। দলীয় খেলার ভিত গঠনে ব্যর্থ হওয়ার সুস্পষ্ট ঘটনা হিসেবে আবির্ভূত হয় বাবর আজমের রান আউট। ২১ বলে ২ রান করা বাবর ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে এ দিন সাজঘরে ফেরেন, যা পুরো দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ বার রান আউট হওয়ার রের্কড গড়েন বাবর। তবে আবদুল্লাহ শফিক এক প্রান্ত আগলে রেখে অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংস খেলেন, যা ৩২৩ বলে সম্পন্ন হয়।
সপ্তম উইকেটে শফিক ও সাজিদ খানের ৫৯ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও, জেইডেন সিলসের বলে সাজিদের বিদায়ে ভাঙন ধরে। এরপর জোমেল ওয়ারিকানের তাণ্ডবে মাত্র ৪ বলে শেষ ৩ উইকেট তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ারিকান প্রথম ইনিংসে মোট ৬টি উইকেট দখল করেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয় বারার যেখানে একটি ইনিংসে ন্যূনতম পাঁচ উইকেট পেলেন। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৮ রান করেন বাবর আজম, আর বল হাতে ওয়ারিকান ১১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: প্রথম ইনিংস ৩৪৪, দ্বিতীয় ইনিংস ১০৩/৬ (হজ ৩৪, ত্যাগনারায়ণ ১৭, চেজ ১৭; সাজিদ ২/৩২, উসমান ২/২৯)।
পাকিস্তান: প্রথম ইনিংস ৩৮৭ (শফিক ১৬০*, বাবর ৮৮, সাজিদ ৩০; ওয়ারিকান ৬/১১২, শামার ২/৮৪, সিলস ১/৫৫)।



