বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের এক রুদ্ধশ্বাস দ্বৈরথে একে অপরকে ক্রমাগত উজ্জীবিত করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি। কখনও ফরাসি তারকা এগিয়ে যাচ্ছেন, তো কখনও আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি। মায়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমবাপ্পের জোড়া গোলের পর সেই লড়াইয়ে পালাবদলের গল্প যেন আরও জমল।

ম্যাচের ৪৮ মিনিটে প্রথম গোলটি করে এমবাপ্পে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল সংগ্রাহকের তালিকায় মেসিকে (২১ গোল) ছুঁয়ে ফেলেন এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তাকে অতিক্রম করেন। এর মাত্র ১৮ মিনিট পর, ৬৬ মিনিটে ফের জালের দেখা পাওয়ার মাধ্যমে ২২ ম্যাচে নিজের গোল সংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক, যা বিশ্বকাপের অভূতপূর্ব রেকর্ড। একইসঙ্গে, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারের দৌড়ে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে; যেখানে মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট।

এই দুটি রেকর্ড পুনরুদ্ধারের সুযোগ তবু রয়েই যাচ্ছে মেসির সামনে। স্পেনের বিরুদ্ধে আজ রাতের ফাইনালে মাঠ নামবেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, ফাইনালে গোল করে প্রতিদ্বন্দ্বীতা জমিয়ে তোলার অদম্য বিশ্বাস রাখেন স্বয়ং এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের জালে দ্বিতীয় গোলটি জড়ানোর পর ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, “লিও সব সময়ই গোল করে। আগামীকালও সে গোল করবেই।” এই ইতিবাচক মানসিকতার ফলে দুই তারকার মধ্যেকার এই লড়াইটা দর্শক-সমর্থকদের জন্য আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, এসব রেকর্ডের চেয়ে এমবাপ্পের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নেওয়ার হতাশা এখনও তাড়া করছে তাকে। তাই গোল্ডেন বুট ও সর্বোচ্চ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েও নিজের হৃদয়ের কথা খোলাখুলি জানাতে দ্বিধা করেননি তিনি। এমবাপ্পের ভাষায়, “ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে আমি অবশ্যই আগামীকালের ফাইনাল ম্যাচটি খেলতে পারাকেই বেছে নিতাম। ক্যারিয়ারের অর্জন বা লিগ্যাসির আলোচনা থামাতে হয়তো রেকর্ডটা ভালো হয়েছে, কিন্তু এই মূহুর্তে আমার কাছে এগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই।”