লিওনেল মেসির কাছে ফুটবল এখন যেন এক জীবন্ত ভিডিও গেম, যেখানে একের পর এক সাফল্যের স্তর পার হয়ে চলেছেন তিনি। তবে এই পথটা যে শুধু জয়ের গল্পে মোড়ানো, তা নয়। ফিফার 'ফ্যানাটিকস ফেস্ট' আয়োজনে বিশ্বকাপ ফাইনালকে সামনে রেখে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে উঠে এল চাপ, ব্যর্থতা আর ফুটবলকে ভালোবাসার প্রসঙ্গ।

সেখানে টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ ইংরেজিতে মেসিকে জিজ্ঞেস করেন, 'লিও, তুমি কীভাবে চাপের সঙ্গে মোকাবিলা করো? এত কিছুর মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষাটা কোথায় পেলে?' কিন্তু ভাষাগত একটি ছোট বিভ্রাটে প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে পারেননি মেসি। আয়োজকদের অনুবাদের দায়িত্বে গড়বড় হওয়ায় তিনি হাসতে হাসতে সতীর্থ এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দিকে তাকান। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটির ভাষান্তর করে দেন।

উত্তরে এই মহাতারকা জানান, চাপকে জয় করার মূলমন্ত্র লুকিয়ে আছে তার শৈশবেই। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'ছোটবেলায় আমি বুঝতে শিখেছিলাম, জেতার চেয়ে হারতেই হয় অনেক বেশি। আর সেই শিক্ষাই একজন মানুষ ও ফুটবলার হিসেবে আমাকে গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে।' মেসির ভাষায়, শৈশবে ফুটবল ছিল নিছক এক আনন্দের উৎস, যেখানে মাঠে নামার তাড়না ছিল সবকিছু ছাপিয়ে। স্কুল, রাস্তা বা সংগঠিত দল—যেখানেই সুযোগ পেতেন, নিজেকে উজাড় করে দিতেন।

চাপকে কীভাবে বর্তমান দলও উপেক্ষা করে চলেছে, সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা কখনো চাপ নিয়ে ভাবি না। আমাদের দল প্রতিযোগিতা করতে পছন্দ করে, জিততেও ভালোবাসে। কিন্তু এটা দলীয় খেলা, বিপক্ষও জয়ের লক্ষ্যেই নামে। আপনি প্রতিবার জিতবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।'

অনুষ্ঠানের এক সাংবাদিক মেসির ক্যারিয়ারকে ভিডিও গেমের সঙ্গে তুলনা করে মজা করে বলেন, তিনি তো একটার পর একটা 'লেভেল আনলক' করেই চলেছেন। এই রসিকতায় যেন সায় দিয়ে মেসি নিজেও হেসে বললেন, 'আমি তো কাতার বিশ্বকাপেই ফুটবল শেষ করে ফেলেছি!' অর্থাৎ সব অর্জন যেন সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন তিনি। তবুও আরেকটি ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, মেসির এই নিরুদ্বিগ্ন দর্শনই প্রমাণ করে, ফুটবলকে ভালোবাসা আর খেলাটিকে উপভোগ করাই তার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি।