বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামীকালের ফাইনালে তার কোনো নির্দিষ্ট ফেবারিট দল নেই। আর্জেন্টিনা ও স্পেন—দুই দলই শিরোপার মঞ্চে পৌঁছানোর যোগ্যতা প্রমাণ করেছে বলে মনে করেন তিনি। নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে তিনি একটি উপভোগ্য ফাইনাল প্রত্যাশা করছেন, যেখানে প্রচুর গোল হবে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের স্মৃতি টেনে এনেছেন তিনি। সেবার আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের শেষ মুহূর্তের সেভটি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন। আশা করছেন, এই ফাইনালেও তেমন কোনো অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ফুটবলপ্রেমীদের উপহার হিসেবে মিলবে। কাতারের ফাইনাল টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল; এবারও সেরকম কিছু হতে পারে কি না—সেটাই দেখার অপেক্ষা। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার অসাধারণ কামব্যাক দেখেছেন তিনি, কিন্তু স্পেন তেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বকাপের শুরুতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর স্পেন বাকি ছয় ম্যাচেই আগে গোল করেছে। ফলে পিছিয়ে পড়লে স্পেন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়—সেটা এখনো অজানা, যা তাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে।

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দলের এই লড়াইকে তিনি ৫০-৫০ অবস্থায় দেখছেন। কেউ কারও চেয়ে কম নয় বলে মন্তব্য করেন। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার বড় ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা থাকলেও স্পেন দুই বছর আগে ইউরো জিতেছে এবং ১৬ বছর আগে বিশ্বকাপ জিতেছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লিওনেল মেসি নামের একজন অতিমানবীয় ফুটবলার টানা চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয় ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন। তিনি জানেন ফাইনালে কী করতে হবে।

এই বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্সকে তিনি অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মেসি। এটি সম্ভবত আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির শেষ ম্যাচ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাই তিনি আন্তরিকভাবে চান, মেসি যেন এই ফাইনালে অন্তত একটি গোল করেন।

মেসির পাশাপাশি স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের দিকেও নজর রয়েছে তার। ১৭-১৮ বছর আগের একটি ছবির কথা স্মরণ করেন তিনি, যেখানে মেসি একটি ছোট শিশুকে কোলে ধরে ছিলেন। সেই শিশুই আজ বড় হয়ে মেসির মুখোমুখি ফাইনালে খেলছে—একে তিনি রূপকথার মতো বলে মন্তব্য করেন। মেসি-ইয়ামাল লড়াই দেখতে তিনি মুখিয়ে আছেন।

নিজের প্রিয় দল ব্রাজিল শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিলেও তিনি বাকি ম্যাচগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন। তার দেখা সবচেয়ে ভালো ম্যাচ ছিল শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনা ও মিশরের লড়াইটি। মাঠ থেকে গ্যালারির খুব কাছে বসে তিনি ম্যাচটি দেখেছেন, যেখানে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্তটি অসাধারণ ছিল।

এবারের বিশ্বকাপকে তিনি অনেক দিক দিয়েই আলাদা মনে করেন। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে এবং প্রায় ৪০ দিন ধরে খেলা চলছে, যেখানে সাধারণত এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। একটু লম্বা হলেও ফুটবল সমর্থকেরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্যালারিতে বসে কয়েকটি খেলা খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যে দলই জিতুক, আজকের ফাইনালটা জমজমাট হলে তার বিশ্বকাপ দেখার আনন্দ পরিপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।