কিলিয়ান এমবাপ্পে ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠানোর পর তর্জনী উঁচিয়ে দৌড়াতে থাকেন। এই উদযাপনটি ২০০৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যখন রোনালদো নাজারিও ঘানার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন। ঠিক ২০ বছর পর সেই একই উচ্চতায় পৌঁছেছেন এমবাপ্পে। তার এই অর্জনে গর্বিত সাবেক ফরাসি মিডফিল্ডার ক্লদ ম্যাকলেলে। তিনি এমবাপ্পেকে ‘আধুনিক সময়ের আরনাইন’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যার অর্থ রোনালদো নিজেই। সম্প্রতি লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো স্বীকার করেছেন, এমবাপ্পের খেলার ধরনে নিজের সেরা সময়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান।

এমবাপ্পের ব্রাজিলিয়ান সংযোগের আরেকটি দিক আছে, যা রোনালদোর জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। এই বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ১০ গোল ব্রাজিল দলের মোট গোলসংখ্যার সমান। আগের বিশ্বকাপেও তার ৮ গোল ছিল ব্রাজিলের সমান। ব্রাজিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা দল, কিন্তু দুটি বিশ্বকাপে (১০ ম্যাচ) একজন খেলোয়াড় তাদের সমান গোল করলে বিস্ময় জাগে। এমবাপ্পের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

ফাইনালে লিওনেল মেসি রেকর্ডটি নিজের করে নিলেও ভবিষ্যতের চিত্র ভাবনায় ফেলে দেয়। ৩৯ বছর বয়সী মেসি ৩৩ ম্যাচে ২১ গোল করেছেন, যেখানে এমবাপ্পে ২২ ম্যাচে ২২ গোল করেছেন। মেসি পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার না হওয়ায় তার পরিসংখ্যান চমকপ্রদ, কিন্তু এমবাপ্পে স্ট্রাইকার হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল। এবারই দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট জিততে পারেন এমবাপ্পে, যা বিশ্বকাপে আগে দেখা যায়নি।

এমবাপ্পের ফিটনেস বিবেচনায় আরও দুটি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত। আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞান ও নিজের প্রতি যত্ন তাকে আরও একটি বিশ্বকাপের ট্রেন ধরিয়ে দিতে পারে। তার গোলের হার ক্রমশ বাড়ছে: ২০১৮ বিশ্বকাপে ৪, ২০২২ বিশ্বকাপে ৮, এবং এবার ১০ গোল। গত ৫৬ বছরে এক আসরে কেউ ১০ গোল করতে পারেনি এমবাপ্পে ছাড়া। ফ্রান্স ফাইনালে উঠতে না পারলেও এমবাপ্পের অমরত্ব ঠেকেনি।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে ফাইনাল খেলাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তার জন্ম ১৯৯৮ বিশ্বকাপের বছর, যখন ফ্রান্স শিরোপা জিতেছিল। ২০১৮ বিশ্বকাপে তারকা হয়ে ওঠা, ২০২২ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এবং এবার গোলের সৌরমণ্ডলে বৃহস্পতি নক্ষত্রে পরিণত হওয়া—সবই তাকে বিশ্বকাপের সন্তান হিসেবে চিহ্নিত করে।

এমবাপ্পে নিজেই মনে করেন, বিশ্বকাপে আলো জ্বালাতেই তার জন্ম। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের প্রায় পাঁচ মাস পর তার জন্ম, আর সেবার বিশ্বকাপটা রোনালদোর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এমবাপ্পে সেই ধারাকে ভেঙে দিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপে তার ১৪ গোলের অবদান, যা ৬৬ বছর আগে জাস্ট ফন্তেইনের (১৫) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ফাইনালে মেসি কী রূপকথা লেখেন, সেটাই এখন দেখার।