প্রায় তিন সপ্তাহ পর আবারও ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে জাল খুঁজে নিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। জুলাইয়ের শুরুতে নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপে করা তার পেনাল্টি গোলটি শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের যাত্রা থামাতে পারেনি। কিন্তু গত রাতে ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে এক বিব্রতকর হার এড়াতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তবে শুধু একটি নয়, সেদিন রাতে জোড়া গোল করেছেন নেইমার। তার এই দ্বিগুণ প্রচেষ্টাতেই পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল শাপেকোয়েন্সের সাথে ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ করেছে সান্তোস।
ফিফা বিশ্বকাপের পর এটিই ছিল সান্তোসের হয়ে নেইমারের প্রথম ম্যাচ। এর আগে ‘ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপে’ তার অংশ নেওয়া নিয়ে বিস্তর সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সে সব কথাবার্তা ভোলেননি তারকা ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মাথায় নিজের প্রথম গোলটি উদযাপনের সময় তাস বাঁটার ভঙ্গি প্রদর্শন করেন তিনি। পেনাল্টি অঞ্চলের মধ্যে একজন সতীর্থের সাথে দেয়া-নেয়া করে কোণাকুণি এক দারুণ শটে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান নেইমার।
প্রথমার্ধেই তার গোলে লিড নেয় সান্তোস। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খলার চিত্র পুরোপুরি উল্টে যায়। একটি আত্মঘাতী গোলসহ ২-১ ব্যবধানে পেছিয়ে পড়ে স্বাগতিকেরা। পরিস্থিতির মাঝেই ৬২তম মিনিটে ঘটে বিতর্কের সূত্রপাত। শাপেকোয়েন্সের এক খেলোয়াড়কে ফাউল করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেন নেইমার। রেফারি যখন ফাউল করা সেই ফুটবলারকে হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন, তখন তাঁর একজন সতীর্থ সেখানে এসে দাঁড়ান। এতে আরও উত্তেজিত হয়ে তাকেও ধাক্কা দিতে পিছপা হন না নেইমার।
এইসব কর্মকাণ্ডের পর শাসতির মুখ থেকে রক্ষে পাওয়ার কোনো পথ ছিল না। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই নেইমারের জন্য হলুদ কার্ড বের করেন। যেহেতু এটি তার ম্যাচের দ্বিতীয় সতর্কতা ছিল, ফলে আসন্ন প্রতিযোগিতায় সান্তোসের পরবর্তী লড়াইয়ে তিনি মাঠে নামতে পারছেন না।
খেলার চূড়ান্ত পর্যায়ে আবারও নিজের দলের ত্রাতা হিসেবে হাজির হন নেইমার। নির্ধারিত সময়ের ৯০তম মিনিটে কাবায়েরো ফাউলের শিকার হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সৃষ্ট এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জন্য সমতাসূচক গোলটি আদায় করেন তিনি। শেষপর্যন্ত ২-২ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
এই ড্রয়ের ফলে সান্তোস ২২ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘এ’-এর পয়েন্ট টেবিলে ১৪তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে, যা অবনমন এলাকার খুব কাছেই। বিপরীতে, মাত্র ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার শেষে থাকা শাপেকোয়েন্সের দ্বিতীয় ডিভিশনে নেমে যাওয়ার আশংকা আরও বহুলাংশে বেড়ে গেল। সমালোচকদের প্রতি ইঙ্গিত করে ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় নেইমারের বার্তা ছিল সংক্ষিপ্ত: ‘ঘ্যান ঘ্যান করে নয় বেরং নিজেদের চরকার তেল দেওয়ার পরামর্শ।’




