বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে এক অদ্ভুত দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে। আনন্দ-উল্লাসের মাঝেই দলের কয়েকজন সদস্য কাঁচি হাতে গোলপোস্টের দিকে ছুটে যান এবং জাল কাটতে থাকেন। ঘরের প্রয়োজনে জাল কাটছেন নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য— এমন প্রশ্ন মাথায় আসাই স্বাভাবিক। আসলে, ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা যেমন স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্ট্যাম্প খুলে নিয়ে যান, ফুটবলেও গোলবারের জাল ঠিক তেমনই এক স্মারক।

এটি মূলত স্মৃতি সংরক্ষণেরই এক কৌশল। যেমন কেউ পছন্দের কোনো জায়গা থেকে ছবি তোলার পাশাপাশি সেখানকার ক্ষুদ্র কোনো কিছু সঙ্গ করে নিয়ে আসেন, যাতে পুরো অভিজ্ঞতাটি বারবার মনে পড়ে। খেলোয়াড়েরাও সেই একই কৌশল অবলম্বন করেন। যে গোলপোস্টে বল জড়িয়ে তারা ইতিহাস রচনা করেছেন, তারই একটি টুকরো নিজের সংগ্রহে রাখার লোভ হয় অনেকের। সম্প্রতি স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকেও গোলবারের ওপরে চড়ে জাল কাটতে দেখা গেছে।

তবে ফুটবল অঙ্গনে জাল কেটে উদযাপনের এই রীতি খুব বেশি পুরোনো নয়। এই ঐতিহ্যের শুরুর গল্পটি জড়িয়ে আছে এক স্প্যানিশ ফুটবলারের নামের সঙ্গে। ২০১১ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়ের পর বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে প্রথম এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন। সেদিন পিকে জালটি খুলে নিজের গায়ে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। এরপর থেকেই, কোনো বড় শিরোপা জিতলে তিনি প্রথাগতভাবে গোলবারের কাছে গিয়ে কাঁচি দিয়ে জাল কাটতেন এবং তা স্মৃতি হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন।

পিকে'র এই অভিনব উদযাপন দেখে তাঁরই আরেক স্প্যানিশ সতীর্থ জিরিও রামোসও একই পন্থা অবলম্বন শুরু করেন। ধীরে ধীরে এই উদ্যাপন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফুটবল বিশ্বেই। বর্তমানে এটি এক প্রতিষ্ঠিত ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। যে গোলপোস্টে বল জড়িয়ে অর্জনের ইতিহাস গড়া হয়, তার একটি অংশ নিজের ঘরের রাখার অনুভূতিই যেন আসল আকর্ষণ। যখনই কেউ সেই জালের টুকরোটির দিকে তাকায়, তখনই নিজের সাফল্যের অনুভূতি জাগ্রত হয়। এমন উদযাপনে তাই এখন অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন।