অনলাইনে কেনাকাটার সময় শুক্রবার বিকেলকে সবচেয়ে খারাপ সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, ওই সময়ে মানুষের মানসিক ক্লান্তি বা ‘কগনিটিভ লোড’ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা বিজ্ঞাপনের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথু পিটম্যানের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় তিনটি ভিন্ন পরীক্ষা চালানো হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ প্রথমে ইনস্টাগ্রামে ৩০ সেকেন্ড স্ক্রল করেন এবং অন্যটি সরাসরি বিজ্ঞাপন দেখেন। প্রতিটি পরীক্ষায় টেকসই পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়—যেমন লন্ড্রি ডিটারজেন্ট শিট, ইকো-ফ্রেন্ডলি ফোন কেস এবং রিইউজেবল ওয়াটার বোতল। বিজ্ঞাপনের শেষ লাইনটি পরিবর্তন করে দুটি ভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়: একটি ক্ষেত্রে 'সবচেয়ে ভালো পণ্য কোনটি? তথ্যগুলো দেখুন, নিজেই সিদ্ধান্ত নিন'—এই ধরনের অপ্রত্যক্ষ বার্তা দেওয়া হয়। অন্যটিতে সরাসরি বলা হয় 'তথ্য পরিষ্কার, ট্রুআর্থ সেরা'।

ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ অবস্থায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া বিজ্ঞাপন পছন্দ করেন। কিন্তু মানসিক ক্লান্তির কারণে যখন তাদের মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকে, তখন তারা সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া বিজ্ঞাপনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। গবেষকরা বলছেন, এর কারণ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। ক্লান্ত অবস্থায় সরাসরি দাবি করা বিজ্ঞাপনগুলো ব্র্যান্ডকে আরও নির্ভরযোগ্য মনে হয়।

গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করে পিটম্যান বলেন, 'আমরা সবাই নিজেদের যুক্তিবাদী ভোক্তা বলে মনে করি। কিন্তু বাস্তবে যখন আমাদের মানসিক শক্তি কম থাকে, তখন আমরা সহজে প্রভাবিত হই।' তিনি শুক্রবার বিকেল ৪টার সময়টিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, 'এই সময়ে বড় কোনো কেনাকাটা না করাই ভালো। বরং পরের দিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, যখন আপনি পরিষ্কার মাথায় চিন্তা করতে পারবেন।'

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রত্যক্ষ বার্তা ব্যবহার করলেও তা প্রমাণভিত্তিক না হলে বিপরীত ফল দিতে পারে। গ্রিনওয়াশিংয়ের অভিযোগ এড়াতে ব্র্যান্ডগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়া উচিত যে বিজ্ঞাপনের আত্মবিশ্বাসী সুর তাদের দুর্বল অবস্থায় বেশি কাজ করে। তাই রাতের বেলা বা ক্লান্ত অবস্থায় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।