যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এন্ট্রি-লেভেল পদে নিয়োগ কমিয়ে সেগুলো অটোমেশনের আওতায় আনার যে কৌশল নিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে তাদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এমআইটি বিজনেস স্কুলের ডিজিটাল ইকোনমি ইনিশিয়েটিভের সহ-পরিচালক ও গবেষক অ্যান্ড্রু ম্যাকঅ্যাফি। তাঁর মতে, এভাবে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার পথ রুদ্ধ হবে। তিনি বলেন, অন-দ্য-জব ট্রেনিং আর অ্যাপ্রেন্টিসশিপের মাধ্যমেই জটিল জ্ঞানভিত্তিক কাজ শেখা সম্ভব। কোনো দক্ষ ব্যক্তিকে রুটিন কাজে সহায়তা করলেই সেই শেখা হয়। কিন্তু খুব দ্রুত অটোমেশন চালু করলে সেই অ্যাপ্রেন্টিসশিপের সিঁড়িটাই হারিয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে জেন জেডের অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে। হ্যান্ডশেক নামের একটি এন্ট্রি-লেভেল চাকরির প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় পোস্টিং ২ শতাংশ কমেছে এবং মহামারির আগের তুলনায় তা ১২ শতাংশ নিচে। নিউ ইয়র্ক ফেডের পরিসংখ্যান বলছে, ২২ থেকে ২৭ বছর বয়সী কলেজ স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে। মনস্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের স্নাতকদের ৮৯ শতাংশই আশঙ্কা করছেন যে এআই বা অটোমেশন তাদের চাকরি কেড়ে নিতে পারে; যা ২০২৫ সালে ছিল ৬৪ শতাংশ। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই একপর্যায়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এআই অর্ধেক এন্ট্রি-লেভেল হোয়াইট-কলার চাকরি মুছে ফেলতে পারে, যদিও তিনি পরে সেই মন্তব্য প্রত্যাহার করেন।

ম্যাকঅ্যাফি আরও সতর্ক করে বলেন, এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ বন্ধ রাখলে কোম্পানিগুলো আরেকটি বড় সুযোগও হারাবে—জেন জেডের এআই দক্ষতা। নভেম্বর ২০২৫-এ ডেলয়েটের গবেষণায় দেখা গেছে, জেন জেডের প্রায় ৭৬ শতাংশ স্বতন্ত্র এআই টুল ব্যবহার করে, যা অন্য যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি। তাঁর ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়। সুতরাং এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ কমালে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে উৎসাহী এআই ব্যবহারকারীদের উৎসই শুকিয়ে যাবে।

তবে ইতিহাস বলে, তরুণ কর্মীরা ধারণার চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলেজ-শিক্ষিত তরুণ কর্মীরা চাকরি হারানোর পর অন্যান্য কর্মীদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক আয় হারান এবং তারা সহজেই পেশা পরিবর্তন করে নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান উদ্বেগের বিপরীতে অতীতে তরুণ কর্মীরা পেশাগত গতিশীলতা এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আরও নমনীয়ভাবে নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছে।

শুধু নিয়োগ কমা নয়, কিছু বড় প্রতিষ্ঠান এন্ট্রি-লেভেল প্রতিভার উপর জোর দিচ্ছে। আইবিএম ঘোষণা করেছে তারা এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ তিনগুণ বাড়াবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদী দক্ষতা তৈরি হয়। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী অরবিন্দ কৃষ্ণ অক্টোবর ২০২৫-এ বলেছিলেন, তারা আগের কয়েক বছরের তুলনায় কলেজ থেকে বেশি লোক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী মার্ক বেনিওফ ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের কোম্পানি এআই সিস্টেম তৈরির জন্য ১ হাজার নবীন এবং ইন্টার্ন নিয়োগ দিচ্ছে। তিনি এক্স-এ লেখেন, অনেকে বলছিল এআই এন্ট্রি-লেভেল চাকরি শেষ করে দেবে, কিন্তু এই স্নাতক ও ইন্টার্নরাই এআই তৈরি করছে। অ্যামাজনও পিছিয়ে নেই। বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে, প্রযুক্তি জায়ান্টটি ২০২৬ সালে ১১ হাজার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টার্ন নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা আগের বছরের সমান। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী ম্যাট গারম্যান বলেন, তারা এখনো আগের মতোই সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগ করছে এবং এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও গতি পাবে।