অন্যের কনটেন্ট নিজের নামে প্রকাশ করে আয় করার প্রবণতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব ভাগাভাগি নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি অন্যের ছবি, ভিডিও বা লেখা নিজের বলে চালিয়ে আয় করেন, তাহলে সেই অর্থ সরাসরি মূল কনটেন্ট নির্মাতার কাছে চলে যাবে। একইসঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম ভঙ্গকারীদের নির্মাতা কর্মসূচি থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কনটেন্ট পুনরায় প্রকাশের ঘটনা নতুন নয়। সাধারণত দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া কনটেন্টগুলো নির্মাতাদের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে আয় করেন অনেক ব্যবহারকারী। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন মূল নির্মাতারা। এই সমস্যার সমাধানেই নিজেদের নীতিমালা পরিবর্তন করছে এক্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রোক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের মাধ্যমে নকল কনটেন্ট শনাক্ত করা হবে। গ্রোকের সর্বশেষ সংস্করণ আগের সংস্করণের তুলনায় তিন গুণ বেশি দক্ষতার সঙ্গে নকল কনটেন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম।

এক্সের পণ্য বিভাগের প্রধান নিকিতা বিয়ার জানিয়েছেন, কেউ যদি চুরি করা ভিডিওতে জলছাপ, ইন্ট্রো বা অন্য কোনো সম্পাদনা যোগ করে সেটিকে নিজের কনটেন্ট হিসেবে প্রকাশের চেষ্টা করেন, তাহলেও সেই ভিডিও থেকে পাওয়া আয়ের অংশ মূল নির্মাতার কাছেই যাবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ভাইরাল লেখা কপি করে প্রকাশের ক্ষেত্রেও। সর্বশেষ পর্যালোচনায় এক্সে প্রায় ১৫ লাখ চুরি করা পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

কনটেন্ট চুরির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পরিচালিত ভুয়া বা স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট (বট) শনাক্তের কার্যক্রমও জোরদার করেছে এক্স। নতুন নীতিমালায় কৃত্রিমভাবে ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি বারবার লাইক, মন্তব্য বা অনুসারী বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পোস্ট দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা হবে।