কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ তথাকথিত 'ক্লাউড'-এর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে জমি, পানি ও বিদ্যুতের মতো বাস্তব সম্পদের বিপুল চাহিদা। ডেটা সেন্টার স্থাপনের এই প্রবণতা পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এক কঠিন বাস্তবতা চাপিয়ে দিচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের এই সম্প্রসারণের পেছনে প্রকৃত ভৌত পরিকাঠামো তৈরি করতে গিয়ে জমির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য কৃষি বা প্রাকৃতিক এলাকা দখল করা হচ্ছে, যা ভূমির অন্যান্য ব্যবহারের ওপর চাপ ফেলছে। পাশাপাশি, এই সুবিশাল স্থাপনাগুলোকে শীতল রাখতে এবং সার্ভার পরিচালনায় প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, যা স্থানীয় জলসম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক অঞ্চলে পানির এই বিপুল চাহিদা স্থানীয় কৃষি ও বসবাসের জন্য পানির সংকট তৈরি করছে।

এছাড়াও, ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, তা প্রায়শই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন হয়। ফলে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি এই ডেটা সেন্টার বুমের লুকানো খরচ বহন করছে—দূষণ, পানির অভাব, এবং জমির ব্যবহার পরিবর্তনের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এআই-এর অগ্রযাত্রার এই বাস্তব প্রভাব উপেক্ষা করা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যা ডেকে আনতে পারে।