যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি এলি লিলির ওজন কমানোর পিল 'ফাউন্ডায়ো' ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথমবারের মতো বাজারজাত করার সুযোগ পেল এই ওষুধটি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এলি লিলির এই নতুন পণ্যটি এখন যুক্তরাজ্যের বাজারে পাওয়া যাবে। কোম্পানিটি আশা করছে, এটি ওজন কমানোর চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে যারা ইনজেকশনের পরিবর্তে মুখে খাওয়ার ওষুধ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

এদিকে, এই অনুমোদনের ফলে ডেনমার্কের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্কের জনপ্রিয় ওষুধ ওয়েগোভির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে এলি লিলি। এর আগে শুধুমাত্র মার্কিন বাজারেই এই দুটি কোম্পানির মধ্যে তীব্র লড়াই ছিল। এখন সেই লড়াই বিশ্বের অন্যান্য বাজারেও ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ফাউন্ডায়োর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীদের জন্য এটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ওষুধের প্রভাব কতটা ইতিবাচক হবে, তা পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ওজন কমানোর কার্যকর ও সহজলভ্য চিকিৎসার চাহিদাও বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এলি লিলির মতো বড় কোম্পানিগুলোর নতুন নতুন ওষুধ বাজারে আনা রোগীদের জন্য সুখবর বলেই মনে করছেন অনেকে।

এলি লিলি ইতিমধ্যে ফাউন্ডায়োর জন্য অন্যান্য দেশেও অনুমোদনের আবেদন করেছে। যুক্তরাজ্যের এই অনুমোদন অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ বাংলাদেশের বাজারে এই ওষুধটি আসবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওষুধটি প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যাবে না বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই ওষুধ সেবন করতে হবে।