বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হোটেল গ্রুপ ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (আইএইচজি) চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে লাভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক হোটেল খাতে চাহিদা বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি।
তবে আয়ের এই ইতিবাচক ধারা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত অস্থিরতা ভ্রমণ খাতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে স্বীকার করেছে আইএইচজি। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে সংঘাতের কারণে বেশ কিছু পর্যটন গন্তব্যে বুকিংয়ে মন্দাভাব দেখা গেছে।
বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে হোটেল কক্ষের চাহিদা লক্ষণীয়ভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে। ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও অবকাশযাপনকারী উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের কাছ থেকেই শক্তিশালী সাড়া মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে প্রথমার্ধের আর্থিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
আইএইচজির হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক বিভিন্ন অঞ্চলে হোটেল শিল্পে চাহিদার ধরণ বদলাচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার মতো উদীয়মান বাজারগুলোতে মধ্যবিত্তের সম্প্রসারণ দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত কারণে কিছু বাজারে বুকিংয়ে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে, তবুও অন্যান্য অঞ্চলে বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে রেকর্ড সংখ্যক গ্রাহক হোটেলে অবস্থান করেছেন। ফলে কোম্পানির সামগ্রিক আয় ও মুনাফা উভয় সূচকেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য আইএইচজির পূর্বাভাসও আশাব্যঞ্জক। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের চাহিদা এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ পুনরুদ্ধারের ধারা অব্যাহত থাকলে পুরো বছরে তাদের আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তা ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।




