রাজধানী ঢাকায় গত ছয় ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার প্রভাবে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে ক্যাম্পাসের নিচু অংশগুলোতে পানি জমে যায়। বিশেষ করে ছাত্রীদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি খাবার পানির সংকটও তৈরি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে ক্যাম্পাসের অন্যান্য এলাকা যেমন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক ক্লাব, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, নীলক্ষেত ও পলাশী মোড়েও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হয়।
বঙ্গমাতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আনিকা তামজিদ অভিযোগ করেন, হলের বাইরে পানি এতটাই জমেছে যে শিক্ষার্থীরা বের হতে পারছেন না। সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার পানিও শেষ পর্যায়ে। তিনি আরও জানান, পরীক্ষা পেছানো হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে পানির মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যেতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ালেখাও সম্ভব হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা খাতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “ফজিলাতুন্নেছা হল, মৈত্রী হল ও সমাজকল্যাণ অনুষদে পানি সমস্যার কোনো সমাধান নেই। প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, তবুও পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চলছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিবছর বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়, কিন্তু কোনো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা সুলতানা জানান, হলের পানি কিছুটা কমলেও নিরাপত্তার কারণে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। খাবার পানির সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়েছে। তিনি বলেন, “পানি পুরোপুরি সরে গেলেই বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হবে।” সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনসহ সকল জায়গায় যোগাযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় জানান, পানি নিষ্কাশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পেছানোর দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান। কারণ শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারছে না এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সমস্যার সমাধান দাবি করছে। অনেকেই বলছেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে এই চিত্র পুনরাবৃত্তি হয়, কিন্তু প্রশাসন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয় না। রাজধানীতে ৬ ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ ছিল।

