বিজ্ঞানচিন্তা পত্রিকার সাম্প্রতিক মার্চ সংখ্যায় ‘পয়েন্ট অব ভিউ’ বিভাগে ‘ট্রাইসেরাটপস’ শিরোনামে একটি কল্পকাহিনী স্থান পেয়েছে। হাসান খুরশীদ রুমী অনূদিত এই গল্পটি এক বাবা ও তাঁর কিশোর পুত্রের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে রচিত।
গল্পের সূচনা এক শরতের সন্ধ্যায়। বাবা ও ছেলে সাইকেল চালিয়ে নদীর ধার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাস্তার একটি মোড়ে হঠাৎ এক বিশাল ছায়া মাটি কাঁপিয়ে দ্রুতগতিতে পার হয়ে যায়। প্রাণীটির আকার ও গতিবিধি দেখে প্রথমে গন্ডার বলে ধারণা করলেও, পরে মাথায় তিনটি শিং লক্ষ্য করে তারা চিহ্নিত করে সেটিকে ট্রাইসেরাটপস—ক্রেটাশিয়াস যুগের এক তৃণভোজী ডাইনোসর।
ঘটনার পর বাড়ি ফিরে তারা মাকে জানালে তিনি বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখেন। রাতে বাবা টেলিভিশনের সামনে জেগে থাকেন এবং বাইরে পুনরায় সেই প্রাণীকে দেখতে পান। এইবার ছেলেও জেগে উঠে নিশ্চিত করে যে এটি একটি ট্রাইসেরাটপস। পরবর্তী কয়েক মাস ধরে বাবা-ছেলে নিয়মিত ডাইনোসর দেখতে থাকেন—কখনো টেরানোডনের মতো উড়ন্ত প্রাণী, কখনো গ্যারেজে বা রাস্তায় ট্রাইসেরাটপসের আনাগোনা। তাদের এলাকাজুড়ে যেন দুটি ভিন্ন সময়ের পৃথিবী এক হয়ে মিশে গেছে।
শান্তি ভাঙে এক শুষ্ক দিনে। সন্ধ্যায় ছেলে পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখতে পায় ধুলার ঝড় তুলে ডজনখানেক টাইরানোসরাস দৌড়ে আসছে। তারা স্টেশনের দিকে ছুটে যায়। বাবা-ছেলে সাইকেল চালিয়ে তাদের এলাকায় ফিরে দেখে কংক্রিটের ঢাকা খাল ভেদ করে অসংখ্য টাইরানোসরাস উঠে আসছে। শুরু হয় ভয়াবহ লড়াই। ট্রাইসেরাটপসরা মাথা নিচু করে শিং দিয়ে টাইরানোসরাসের গলা বিদ্ধ করে, কিন্তু শিকারিরা নখ ও দাঁত দিয়ে প্রত্যুত্তর দেয়। রক্তাক্ত এক যুদ্ধের পর ভোরবেলায় মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকে মৃতদেহ। বেশির ভাগ ট্রাইসেরাটপস মারা গেলেও কিছু টাইরানোসরাসও নিহত হয়। আহত একটি টাইরানোসরাস মৃত সঙ্গীর পাশে বসে শিকার করা ট্রাইসেরাটপসের নাড়ি ভুঁড়ি খেতে থাকে, আর অক্ষত চোখে একটি ট্রাইসেরাটপস নিঃশব্দে ঘাস চরায়।
গল্পটিতে বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা মুছে দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষ অস্বাভাবিক ঘটনাকে নিজের সুবিধার্থে অস্বীকার করে। ট্রাইসেরাটপসের আগমন প্রথমে এলাকাবাসীর অলক্ষ্যে থেকে গেলেও ধীরে ধীরে তাদের দৈনন্দিন জীবনে মিশে যায়। শেষ পর্যন্ত সহিংসতার মধ্য দিয়ে দুই যুগের প্রাণীর সংঘর্ষ চিত্রিত হয়েছে।




