বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের আইনি জটিলতা আজ গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে চলেছে। দিল্লি হাইকোর্টে তার চেক বাউন্স মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা এই মামলার রায় দেবেন।
প্রায় পনেরো বছর আগের একটি ঘটনা এই মামলার মূল ভিত্তি। ২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নেন রাজপাল। বক্স অফিসে সিনেমাটি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, যার কারণে ঋণ পরিশোধে ধস নামে।
২০১৮ সালে একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল ও তার স্ত্রী রাধা যাদবকে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে। তাদের ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরের বছর একটি সেশনস কোর্টও এই রায় বহাল রাখে।
২০২৪ সালে দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় স্থগিত করা হয়। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে রাজপালকে বকেয়া পরিশোধে সৎ ও নিরলস উদ্যোগ দেখাতে হবে। সুদ ও জরিমানা বাবদ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় নয় কোটি রুপি।
গত বছরের শেষের দিকে রাজপাল দুটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি পরিশোধ করেন। তবে আদালত মনে করে এটি মোট ঋণের তুলনায় নগণ্য। এরপর ডিসেম্বরে ৪০ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অভিনেতা। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় বিচার বিভাগের আস্থা হারান তিনি।
২ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বাদীপক্ষ ছয় কোটি রুপিতে সমঝোতায় রাজি হয়েছিল, কিন্তু রাজপাল তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালত একটি কাঠামোগত পরিশোধ পদ্ধতি প্রস্তাব দিলেও তাতেও সম্মতি মেলেনি। ফলে রায় মুলতবি রাখা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে রাজপাল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক তাকে শেষ মুহূর্তের সময় আবেদনটি খারিজ করে দেন। তবে ষোলদিন পর হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে। এই সংকটকালে সালমান খান, অজয় দেবগন, বরুণ ধাওয়ান ও সোনু সুদ রাজপালকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
আজকের শুনানিতে রাজপাল আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। তার আইনজীবীর বক্তব্য, তিনি ইতিমধ্যে আড়াই কোটি রুপি পরিশোধ করলেও আগের আইনজীবীর ভুলের জন্য বর্তমান পক্ষকে দায়ী করা ঠিক নয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী অবনীত সিং সিক্কা দাবি করেন, রাজপাল আগেই দণ্ড মেনে নিয়েছেন, এখন আর্থিক দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। রাজপাল নিজে অভিযোগ করেন, এই মামলার কারণে তার হাতে থাকা ১২০০ কোটি রুপির কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিচারপতি শর্মা উভয়পক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, বিচারকের ভদ্র ব্যবহারকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক নয়। এভাবে আদালতের সময় নষ্ট করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এখন দেখার বিষয়, আদালত তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।




