শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের ধারা এবারও অটুট। নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকায় অবস্থিত নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮২ জন শিক্ষার্থী। তাদের প্রত্যেকেই জিপিএ–৫ অর্জন করেছে, যা পুরো দেশের জন্য নজিরবিহীন এক সাফল্য।
সোমবার সকাল ১০টায় ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ উৎসবের চেহারা নেয়। পরীক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা আনন্দে নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও আনন্দে শামিল হন। মিষ্টি বিতরণের পাশাপাশি কেউ কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, এ ফল সম্ভব হয়েছে শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম, যথাযথ দিকনির্দেশনা, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, বিশেষ ক্লাস এবং গাইড টিচারের মাধ্যমে পরিচালিত হোম ভিজিট ও মাসিক পরীক্ষার কারণে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিলয় দেবনাথ জানায়, ‘আমার মতো আমার বন্ধুরাও সবাই জিপিএ–৫ পেয়েছে। তাই সবাই মিলে আনন্দ করছি। এত পরিশ্রমের পর এই ফল পেয়ে সব কষ্ট ভুলে গেছি। মা-বাবা খুশি, এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে?’
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘সারা দেশের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আমরা দেশসেরা অবস্থানেই আছি। চেয়ারম্যান স্যারের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সময়োপযোগী নির্দেশনা এই সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি। আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কখনো বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হতে দিইনি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এত পরিশ্রম করেন, ফলে ভালো ফল হওয়াই স্বাভাবিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও আমরা দেশের সেরা অবস্থান ধরে রাখতে চাই।’
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। সবাই জিপিএ–৫ অর্জন করেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা। প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফল করে আসছে। এবারও শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ–৫ অর্জন করে দেশসেরা ফল ধরে রেখেছে। পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবাইকে অভিনন্দন।’
এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ধারাবাহিকতা নতুন নয়। গত বছর ৩২০ শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ–৫ পেয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন, ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জনের মধ্যে ২৬৬ জন, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং ২০১৭ সালে ১৬৪ জনের মধ্যে ১৬৪ জন জিপিএ–৫ অর্জন করেছিল।
২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে আসছে। বর্তমানে ১৭৪ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্কুলটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ২০০।




