নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ মোট পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক নির্ধারিত নিয়োগ নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই সেখানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে গত ১১ আগস্ট এই তলবপত্র পাঠানো হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. জাহেদ আলমের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আগামী ১৯ আগস্ট নির্দিষ্ট সময়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তার সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তলব করা ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জামসেদুল ইসলাম, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্রাবন্তী দত্ত এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগটি খতিয়ে দেখে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এই অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা জরুরি। তলব করা ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে ধরে নেওয়া হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই।

দুদক নোয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিয়োগ নীতিমালা অমান্য করার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। অন্যদিকে, নোবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।