চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—তারা হলেন সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় অন্তত আরও তিন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, কারখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের তীব্র গন্ধ এতটাই প্রবল ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানার পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের নৌকা ভেড়াতে হয়েছে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ঘাটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ কারখানা থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যায়। তারা গিয়ে দেখেন, কিছু অসুস্থ মানুষকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তাদের দুটি নৌকা ইলিশ ধরে সাগর থেকে উপকূলের দিকে আসছিল, কিন্তু গ্যাসের গন্ধের কারণে তারা উপকূলের কাছে আসতে পারেনি। কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তিনি কারখানার বাইরে রয়েছেন। কারখানা থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চার থেকে পাঁচজন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন তিনজনের মতো। তিনি কারখানায় গিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কারখানা থেকে ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়, এর মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।