বৈশ্বিক বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার অভূতপূর্ব গতিতে এগিয়ে চললেও, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। ২০২৫ সালে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রথমবারের মতো বায়ুশক্তিকে ছাড়িয়ে গেছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সাফল্যের পরও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ সত্ত্বেও মোট চাহিদার নিরিখে জীবাশ্ম জ্বালানির অংশ এখনও বিশাল। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়েই পূরণ করা হচ্ছে। যদিও সৌর ও বায়ু প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে, তবুও সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে সময় লাগছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লেও, পুরনো কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার হার এখনও ধীর। ফলে একদিকে যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নতুন বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে, অন্যদিকে পুরনো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও চালু রয়েছে। এই দ্বৈত ব্যবস্থার কারণে মোট কার্বন নিঃসরণে তেমন কোনো হ্রাস দেখা যাচ্ছে না।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধাপে ধাপে কমাতে হবে। নতুবা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেওয়া বৈশ্বিক উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত ফল দেবে না। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার স্থিতিশীল হতে পারে, কিন্তু তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।