জেন জেড এবং তরুণ মিলেনিয়ালদের জন্য নিজের বাড়ি কেনা দিন দিন দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে। ফলে অনেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভাড়া বাসস্থান বা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার বিকল্প ভাবছেন। তবে কর্কোরান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী পামেলা লিবম্যানের দাবি, এ সমস্যা নতুন নয়, বিগত ৩০ বছর ধরেই প্রথমবার বাড়ি কেনা তরুণদের জন্য সমান কঠিন ছিল। ১৯৮৪ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে কর্কোরানে এজেন্ট হিসেবে যোগ দেওয়া লিবম্যান দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, বড় বড় বাজার সংকট ও পরিবর্তন তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। নিউইয়র্কের বাজারের প্রেক্ষিতে ফরচুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এখন যেমন কঠিন, আগেও ঠিক তেমনই ছিল।" তবে তিনি স্বীকার করেন, আগের সময়ে বসবাসের উপযোগী এলাকার সংখ্যা কম ছিল, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করত। আটের দশকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিট প্যাকিং ডিস্ট্রিক্ট বা ব্রুকলিনের অনেক এলাকা তখন তেমন জনপ্রিয় ছিল না, ফলে মানুষকে আপার ইস্ট সাইড, আপার ওয়েস্ট সাইড, চেলসি বা ট্রাইবেকায় ভিড় করে থাকতে হতো। বর্তমানে অবশ্য তরুণদের জন্য অনেক বেশি এলাকায় থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে ভালো ভাড়া বাসস্থান বা প্রথমবারের মতো কেনার মতো অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া সব সময়ই কঠিন। লিবম্যান মনে করেন, তরুণদের হাতের নাগালে এখন আরও বেশি সুযোগ রয়েছে, শুধু বাজারে তালিকার দিক থেকে নয়, কর্মক্ষেত্রের ক্ষেত্রেও। নিজের দক্ষতা প্রদর্শন এবং মূল্যায়ন পেতে চাইলে এটি একটি অসাধারণ সময় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সুদের হার কমতে শুরু করায় বাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন এই সিইও। তার মতে, হার কমলে অনেক বাড়িওয়ালা কম সুদে বাড়ি বিক্রির কথা ভাববেন, কারণ ৩% বন্ধক রেখে ৭% বন্ধক নিতে কেউ চান না। ফলে বাজারে নতুন জায়গার তালিকা বাড়বে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা সহজ হবে। যারা কম সুদের হারের অপেক্ষায় ছিলেন, তারাও তখন বাজারে ঝাঁপ দেবেন, ফলে দাম কমার সম্ভাবনা কম। তবে বন্ধকের মাসিক কিস্তির বোঝা কিছুটা কমলে মধ্যবিত্তের জন্য বাজার কিছুটা সাশ্রয়ী হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। লিবম্যানের পরামর্শ, যারা নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় আটকে থাকতে চান না, তাদের জন্য অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ওয়েস্ট ভিলেজের বদলে আপার ইস্ট সাইডে খোঁজ নিলে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে থাকার জায়গা পাওয়া যেতে পারে। প্রথম বাড়ি কেনার জন্য সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তিনি তরুণদের স্টারবাকস কফি কেনা বন্ধ করার পরামর্শ দেন। উবারের বদলে সাবওয়ে ব্যবহার, বাইরে খাওয়ার বদলে বাসায় রান্না — এই ছোট ছোট সঞ্চয়ই যে দ্রুত বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে, তা তুলে ধরেন তিনি। তরুণদের মধ্যে প্রচলিত ডিনার ক্লাবের প্রশংসাও করেন লিবম্যান, যেখানে বন্ধুরা একে অপরের বাসায় রান্না করে সময় কাটান। শেয়ার্ড অ্যাপার্টমেন্টে থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা মার্ক কিউবানও একসময় পাঁচ রুমমেটের সঙ্গে থেকেছেন। তার মতে, শুরুতেই নিখুঁত অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজার চাপ না নিয়ে এক বা দুই বছর সঞ্চয় করে পরে আরও ভালো জায়গায় ওঠা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ শুরুতে কিছু না কিছু আপস করতেই হবে — এমনকি ৪ কোটি ডলার খরচ করতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও।
ঘর কেনা নিয়ে হতাশ জেন জেড? ৩০ বছর আগেও ছিল একই চিত্র, বলছেন কর্কোরানের প্রধান
মার্কিন আবাসনবাজার বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের বাড়ি কেনার সংগ্রাম ৩০ বছর আগের বেবি বুমারদের চেয়ে আলাদা নয়। কর্কোরান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী পামেলা লিবম্যানের মতে, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করলেই প্রথম বাড়ির স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। সুদের হার কমার ফলে বাজারে নতুন গতি আসবে বলেও জানান তিনি।




