ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনা ও বহিরাগত বিনিয়োগ টানতে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' (এফএফই) নামক এই উদ্যোগের আকার দাঁড়াবে প্রায় ২০০০ কোট ডলার। এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা কঠোর ভাষায় ফিফাকে ফুটবলের 'আত্মা' বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।
জানা গেছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই উদ্যোগকে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের গণতান্ত্রিকরণ হিসেবে বর্ণনা করলেও, মূল কৌশল হলো বেসরকারি পুঁজিকে ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশীদার করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফই প্রতিষ্ঠানটি ফিফার সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট ও লাইসেন্সিংয়ের ন্যায় সমুদয় বাণিজ্যিক অধিকার এককভাবে বিক্রয় এবং টুর্নামেন্টগুলোর পরিচালনার কাজ করবে। প্রকল্পটির প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে মার্কিন ব্যাংক জেপি মরগান।
নতুন প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার কাঠামোতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নিকট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্বে থাকা মূল বিনিয়োগকারী হিসেবে যে নামটি সামনে এসেছে, তিনি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনার। তাঁর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান 'থ্রাইভ ইটারনাল' এই দলটির নেতৃত্ব দেবে বলে ইঙ্গিত মিলছে। ফিফা স্পষ্ট করেছে, বাইরের বিনিয়োগকারীদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে না এবং সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ ফিফার হাতেই অক্ষুণ্ণ থাকবে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিকভাবে কোনো লভ্যাংশ না পেলেও, পরবর্তী সময়ে তারা নিজস্ব শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ফিফা সদস্য দেশগুলোর আর্থিক লাভকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বহিরাগত এই বিনিয়োগ এলে কোনো সদস্য দেশ ইচ্ছা করলে ঐচ্ছিক হিসেবে অতিরিক্ত ২ কোটি ডলার তহবিল পেতে পারে। সময়ের সাথে সাথে সবমিলিয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি ডলার বণ্টনের সম্ভাবনাও ফিফা ব্যক্ত করেছে। অনেক সদস্য দেশ নিজস্ব ফুটবল কার্যক্রমে ফিফার অর্থায়নের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, ফলে ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবে তাদের সমর্থন পাওয়া কঠিন হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
উয়েফা এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কড়া বিবৃতি দিয়ে সতর্ক করেছে যে, ফিফা একটি এমন সীমারেখা অতিক্রম করছে যা থেকে ফেরা দুষ্কর। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদেরও এ পরিকল্পনার রূপরেখা প্রণয়নে রাখা হয়নি। অপরদিকে, ২০১৮ সালে জাপানি প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংকের সাথে ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য বিশাল এক চুক্তির ঘোষণা দিয়ে সমালোচনার মুখে পিছু হটা ইনফান্তিনোর জন্য এমন পদক্ষেপ একেবারেই নতুন নয়। 'দ্য টাইমস' ইঙ্গিত দিয়েছে, ফিফা সভাপতির মেয়াদ শেষ হলে ইনফান্তিনো নিজেও নতুন এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিতে পারেন। আগামী বছর তিনি টানা চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তাকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখবে।




