ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৭ বছর বয়সী ওই ছাত্রী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে। সোমবার দুপুরে ফল প্রকাশের পর জানা যায়, ইংরেজি বিষয়ে সে অকৃতকার্য হয়েছে, যদিও বাকি বিষয়গুলোতে পাস করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের বকাঝকার শিকার হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তখন তার মা ঘুমিয়ে ছিলেন। এরপর আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের তরফ থেকে নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো হদিস মেলেনি। অবশেষে আজ সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পুকুরে পানির গভীরতা মাত্র দুই থেকে তিন ফুট। এই অল্প পানিতে কিশোরীর মৃত্যু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। কিশোরীর বাবা বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা অনেক জায়গায় খুঁজেছেন; প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন, পরীক্ষার খারাপ ফলাফলে মন খারাপ হওয়ায় সে হয়তো কারও বাড়িতে চলে গেছে। কিন্তু কখনো ভাবেননি, মেয়ের মরদেহ দেখতে হবে। তিনি আরও বলেন, মেয়েটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না।
তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক আলাল উদ্দিন জানান, বাড়ি থেকে ৫০ হাত দূরে পুকুরে দুই থেকে তিন ফুট পানিতে মরদেহ পাওয়া যায়। এত সামান্য পানিতে স্বাভাবিক মৃত্যুর সম্ভাবনা নেই বলেই তিনি মনে করছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কিশোরীর মরদেহ যে অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই এর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।




